আগুন পোহাতে গিয়ে এক মাসে ৪ মৃত্যু, শতাধিক দগ্ধ

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:৫৯ পিএম

মাঘের কনকনে শীত আর হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত পুরো রংপুর বিভাগ। গত সপ্তাহে প্রবাহিত মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করলেও বর্তমানে কিছুটা কমেছে। তবে আকাশে দেখা মিলছে না সূর্যের। শীত নিবারণের অন্যতম উপায় হিসেবে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহায় এ অঞ্চলের দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। কিন্তু আগুন পোহানোও এখন অনেকটা প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়িয়েছে ছিন্নমূল মানুষগুলোর জন্য। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর বিভাগের আটটি জেলায় গত ৩৫ দিনে আগুন পোহানোর সময় দগ্ধ হয়ে শিশু ও বৃদ্ধসহ ১০৪ জন ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। তাদের মধ্যে মারা গেছে অন্তত চারজন।

তীব্র শীতে রংপুর মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও হাট বাজারগুলোতে লোক সমাগম অনেক কমে গেছে। গত শুক্র ও শনিবার একেবারেই সূর্যের দেখা মেলেনি। তবে গতকাল রবিবার সামান্য সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিলেছে। রাতে কুয়াশার কারণে রাস্তায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। দিনের বেলাতেও হেডলাইট চালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কুয়াশার কারণে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। ব্যবসায়ী ছাড়াও দিনমজুরদের অনেকেই হাতগুটিয়ে বসে আছেন। গ্রামেগঞ্জে রাস্তার ধারে অনেককে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, শীত নিবারণে আগুন পোহাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে বর্তমানে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ৩২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া গত প্রায় এক মাসে ৭২ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। তাদের মধ্যে পঞ্চগড় জেলার ১৫ জন, ঠাকুরগাঁওয়ের ৭ জন, নীলফামারীর ৮ জন, লালমনিরহাটের ৮ জন, দিনাজপুরের ৭ জন, কুড়িগ্রামের ১২ জন এবং রংপুর জেলার ১৫ জন। সর্বশেষ ৩ দিনে আগুন পোহাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৪ জন।

হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দায়িত্বে থাকা সিনিয়র স্টাফ নার্স সাহিদা জানান, শুক্রবার পর্যন্ত বার্ন ইউনিটে শতাধিক অগ্নিদগ্ধ নারী-পুরুষ ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে গত বৃহস্পতিবার গাইবান্ধার মৃত এনামুলের স্ত্রী মমতাজ (৭৫) মারা যান। এর আগে রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকার রাজা মিয়ার স্ত্রীর শামছুন্নাহার (৫৫), রংপুরের পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর এলাকার নুরুল আমিনের স্ত্রী আফরোজা (৫৫) ও রংপুরের পীরগঞ্জ ব্যাখাইটারীর রবিউল ইসলামের শিশুকন্যা জান্নাতী (৯) মারা গেছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান এম এ হামিদ পলাশ বলেন, ‘বর্তমানে শীত থেকে বাঁচতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাই বেশি। শীতে কাবু বয়বৃদ্ধসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আমাদের রমেক হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। গত ১ সপ্তাহে প্রায় সাড়ে ৪০০ শিশু হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য এসেছে।’

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, রংপুরে বর্তমানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলেও দমকা ও হিমেল বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। শুক্রবার ও শনিবার সকাল পর্যন্ত ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়েছে। রংপুর বিভাগের অন্যান্য জেলার মধ্যে দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি ও কুড়িগ্রামে ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত