ঘুষের কমিশন নিয়ে চাকরিচ্যুত সিকিউরিটি গার্ড, ‘বহাল’ কর্মকর্তা

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৪:০৪ পিএম

দেশের একমাত্র চারদেশীয় স্থলবন্দর পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধায় সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের এক কর্মকর্তা ও এক কর্মচারী এই ঘুষ লেনদেন করেছেন।

এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মহেন্দ্রনাথ রায় নামে এক সিকিউরিটি গার্ড।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি তার অভিযোগের পর বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি চাকরিচ্যুত হয়েছেন। অভিযোগে জানা যায়, স্থলবন্দরে সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগের সময় বাংলাবান্ধা ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের প্রশাসন ও হিসাব বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক  গোলাম হাফিজকে মহেন্দ্রনাথ ৯ জন সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগের জন্য ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঘুষ প্রদান করে।

ওই আটজন সিকিউরিটি গার্ড হলেন- শ্যামল, রিপন, সাগর,আনিত্য, কৃষ্ণ, শান্ত , সুমন, স্বপন ও আব্দুল করিম। তারা প্রত্যেকে ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ প্রদান করেন। এই টাকা তিনি ওই কর্মকর্তাকে দেন।

অন্যদিকে ল্যান্ড পোর্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, সিকিউরিটি গার্ডদের কাছে ঘুষ নিয়েছেন মহেন্দ্রনাথ রায়। মহেন্দ্রনাথ রায় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এ জন্য তাকে চাকরিচুত্যও করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মহেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘গোলাম হাফিজ বিভিন্ন কাজ কামে বাড়িতে ডাকতেন আমাকে। একদিন সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগের কথা বলেন। প্রার্থী থাকলে টাকা দিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন। আমি আমার এলাকার আগ্রহী কিছু ছেলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে উনাকে দেই। উনি প্রতিজন সিকিউরিটি গার্ডের জন্য আমাকে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা দিতেন। গোলাম হাফিজ আমাকে অফিসের কাউকে না জানিয়ে গোপন রাখতে বলেন। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ল্যান্ডপোর্ট কর্তৃপক্ষ আমাকে চাকরিচ্যুতির ধমক দিয়ে স্বীকারোক্তি লিখিয়ে নেন।’

অন্যদিকে গোলাম হাফিজ বলেন, ‘সিকিউরিটি গার্ডদের কাছ থেকে টাকা নেন মহেন্দ্রনাথ। ঘুষের বিষয়টি জানাজানি হলে আমি মহেন্দ্রনাথকে টাকা ফেরতের জন্য চাপ দেই। সে আরও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়গুলি জানতে পারলে কর্তৃপক্ষকে জানাই। এ জন্য সে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।’

বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের অধীনে ১৫ জন সিকিউরিটি গার্ড দায়িত্ব পালন করছেন। এদের মধ্যে অনেকেই ঘুষ দিয়ে চাকরি নিয়েছেন।

তারা জানান, মহেন্দ্র ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষের নাম করে এই টাকা নিয়েছেন।  কর্তৃপক্ষের কে এই টাকা নিয়েছে তারা তা জানে না।

বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের পোর্ট ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগে মহেন্দ্র বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। আমরা তা নিশ্চিত হয়েছি। এ ব্যাপারে তিনি স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন। পরে হঠাৎ করে তিনি বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের এক কর্মকর্তার নামে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ এনেছেন। একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে এই অভিযোগটি করিয়েছেন মনে হচ্ছে। তারপরও আমরা তদন্ত করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত