কুমিল্লার মুরাদনগরে নারায়ণ চন্দ্র ভৌমিক নামে এক সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার ভোট জালিয়াতি এবং প্রতারণার অডিও ফাঁস হয়েছে।
ইভিএমে প্রতারণা করে ওই কর্মকর্তা আবুল কাশেম নামে এক ইউপি সদস্য প্রার্থীকে ভোটে জিতিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচনে উপজেলার ৩ নম্বর আন্দিকোট ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হিরাকাশি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
ওই ভোটকেন্দ্রে ঘুষের বিনিময়ে জালিয়াতি করে ফুটবল প্রতীকের সদস্য প্রার্থী আবুল কাশেমকে জিতিয়ে দেন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার নারায়ণ চন্দ্র ভৌমিক। তিনি উপজেলার কুড়াখাল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। মঙ্গলবার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে এমন একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই ওয়ার্ডের তালা প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন।
এদিকে ভোট গ্রহণের প্রায় আট দিন পর অভিযুক্ত ওই সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার একটি অডিও ফাঁস হয়েছে। এতে ওই কর্মকর্তা নিজেই ভোট জালিয়াতির বিষয়টি অপর একজনের সঙ্গে স্বীকার করেন।
অভিযোগে জানা যায়, গত ৩১ জানুয়ারি ৬ষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ২১ ইউপির নির্বাচন সম্পন্ন হয়। সদ্য সমাপ্ত ওই নির্বাচনে উপজেলার আন্দিকোট ইউনিয়নের হিরাকাশি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার নারায়ণ চন্দ্র ভৌমিকের বিরুদ্ধে।
নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার প্রায় আট দিন পর ওই কর্মকর্তার জালিয়াতির তথ্যসহ মোবাইল ফোনে কথোপকথনের একটি অডিও ফাঁস হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে।
অডিওতে ওই কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, গ্রামের সরল ভোটাররা ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট প্রয়োগ করতে পারছিল না। এ সময় তাদের অজ্ঞতার সুযোগে নারায়ণ ভৌমিক গোপন বুথে গিয়ে ইভিএমের বাটন চেপে ভোটগুলো ফুটবল প্রতীকে দিয়ে দেন। প্রতারণা করে প্রায় এক শ ভোটারের ভোট তিনি চেপে দেন বলে স্বীকার ফোনালাপে করেন।
ভোটের আগের রাতে ওই সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী আবুল কাশেমের বাড়িতেও গিয়েছেন বলে জানান এলাকার লোকজন।
ওই ওয়ার্ডের পরাজিত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন লিখিত অভিযোগে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ পুনর্নির্বাচনের দাবি জানান।
সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার নারায়ণ চন্দ্র ভৌমিক বলেন, নির্বাচন কমিশনের অর্পিত দায়িত্ব আমি সততার সঙ্গেই পালন করেছি, কোনো প্রকার জালিয়াতি করিনি, কারো পক্ষপাতও করিনি, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়।
এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম বলেন, আনোয়ার হোসেন নামে পরাজিত এক সদস্য প্রার্থীর কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, অভিযোগের সঙ্গে একজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের অডিও রেকর্ডও জমা দেওয়া হয়েছে, আমরা অডিওটি যাচাইসহ অভিযোগটির তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
