শাবিপ্রবি

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে দেয়ালে দেয়ালে প্রতীকী রক্তের ছাপ

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৮:৩৫ পিএম

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে ‘রক্তিম হস্তছাপ’ ও ‘প্ল্যাকার্ড মিছিল’ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ভবনের দেয়ালে এ রক্তিম হাতের ছাপ দেন তারা। এখানেই তিন দফা দাবিতে পুলিশের লাঠিচার্জ, বুলেট এবং সাউন্ড গ্রেনেড হামলা চালানো হয় শিক্ষার্থীদের ওপর।

এরপর আন্দোলনকারীদের অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ একই জায়গায় এসে শেষ হয়।

মিছিলে শিক্ষার্থীদের হাতে ‘আমার ঘর আমার দোর তুই কোথাকার ভুঁইফোড়’, ‘ভিসি হটাও শাবি বাঁচাও’, ‘আমাদের সংগ্রাম চলছে চলবে’, ‘পতন পতন পতন চাই উপাচার্যের পতন চাই’– প্রভৃতি লেখা সম্বলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। পরে বিকাল ৫টায় বিক্ষোভ মিছিলের পর ‘অন্যায়-নিপীড়ন-জুলুমের’ বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের লড়াইয়ের ইশতেহার হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনের দেয়ালে দেয়ালে ‘রক্তিম হস্তছাপ’ আঁকা হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের হস্তক্ষেপে আমরণ অনশন ভেঙে গত ২৭ জানুয়ারি থেকে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নানা কর্মসূচিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। তবে দীর্ঘ দু সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও আমাদের প্রধান দাবিগুলো মেনে নেয়া হয়নি। আমাদের ওপর করা দুটি মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি ও আন্দোলনে অর্থ যোগানে ব্যবহৃত আর্থিক লেনদেনের একাউন্টগুলো এখনো ব্লকড রয়েছে। তাই আমরা আজকে আবার বিক্ষোভ মিছিল করেছি এবং মিছিল শেষে যে জায়গায় উপাচার্যের নির্দেশে পুলিশ আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল, সেখানে আমাদের লড়াইয়ের ইশতেহার হিসেবে রক্তিম হস্তছাপ এঁকে দিয়েছি। উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

গত ১৬ জানুয়ারি প্রভোস্ট বিরোধী আন্দোলনের সময় অবরুদ্ধ উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে মুক্ত করতে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পুলিশসহ অর্ধশতাধিক আহত হন। হামলার পরপরই প্রভোস্ট বিরোধী আন্দোলন উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক এবং প্রক্টর বডিরও পদত্যাগ দাবি করেন তারা।

পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা ১৯ জানুয়ারি থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে অনশন শুরু করেন। ১৬৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট পর ২৬ জানুয়ারি অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান এবং সব দাবি মেনে নেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত