দেড় বছর ধরে বাসভবনের ভাড়া দেননি সোনিয়া গান্ধী

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৭:১২ পিএম

মাসিক ভাড়া মাত্র ৪,৬১০ টাকা। তারপরও ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী বাসভবন ১০ জনপথের ভাড়া বকেয়া পড়ে আছে। সেই সঙ্গে দিল্লির আকবর রোড এবং চাণক্যপুরীতে সরকারের দেওয়া কংগ্রেসের দুই ভবনেরও ২০১৩ সাল থেকে সেই দুটিরও মাসিক ভাড়া দেওয়া হয়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের গুজরাটের মিথাপুরের সুরজিত প্যাটেলের ‘তথ্য জানার অধিকার আইন’ (আরটিআই) এর এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় আবাসন এবং নগরায়ণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে জানানো হয়েছে, দিল্লির ২৬ আকবর রোডে সরকারি বাংলার (কংগ্রেসের সদর দপ্তরের একাংশ, দলের নারী শাখা এবং সেবাদলের অফিস আছে) মাসিক ভাড়া হল ১২.৬৯ লাখ টাকা। ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ভাড়া দেওয়া হয়নি। একইভাবে চাণক্যপুরীর ভবনের মাসিক ভাড়া ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মেটানো হয়নি। যে ভবনের মাসিক ভাড়া ৫.০৭ লাখ টাকায় ঠেকেছে।

নাম গোপন রাখার শর্তে ভারতের কেন্দ্রীয় এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘অনুমোদন ছাড়াই থাকার জন্য দুটি ভবনের মাসিক ভাড়া বেশি হয়ে গেছে। কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার বেশি যদি ভাড়াটে থাকেন, তাহলে মাসিক ভাড়া পৃথকভাবে হিসাব করা হয়। আরটিআইতে যে ভাড়ার উল্লেখ করা হয়েছে, তা গত মাসের (২০২২ সালের জানুয়ারি)। যে পরিমাণ ভাড়া বকেয়া আছে, তা অনেকটাই বেশি।’

আকবর রোডের ভবনটি ১৯৯৪ সালে সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটিকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। ১৯৮৫ সালে দেওয়া হয়েছিল চাণক্যপুরীর ভবন।

ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গী হিসেবে সোনিয়াকে ১০ জনপথের বাংলো দেওয়া হয়েছিল। সেই টাইপ-৮ ধরনের বাংলোর মাসিক ভাড়া হল ৪,৬১০ টাকা। যা ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে মেটানো হয়নি।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রের উচ্ছেদ নোটিশের পর ২০২০ সালের জুলাইয়ে লোধি এস্টেটের বাংলো ছেড়েছিলেন সোনিয়ার মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

ভারতের নিয়ম অনুযায়ী, দৈনন্দিন কাজকর্মের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে বাংলো দেওয়া হয়। অফিস নির্মাণের জন্য যখন কোনো দলকে জমি দেওয়া হয়, তখন সেই জমি হাতে আসার তিন বছরের মধ্যে ছেড়ে দিতে হয় সংশ্লিষ্ট বাংলো। সেখানে ২০১০ সালে জমি পেয়েছিল কংগ্রেস।

বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসের তরফে সরকারিভাবে মুখ খোলা হয়নি।

তবে নাম গোপন রাখার শর্তে কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, ‘বাংলোগুলো ব্যবহারের মেয়াদ বাড়িয়েছিল সরকার। আমাদের নয়া ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। করোনাভাইরাস মহামারির জন্য কাজে বিলম্ব হয়েছে। সেই ভবন তৈরি হয়ে গেলেই আমরা বাংলো ছেড়ে দেব। নির্বাচনের জন্য সেই বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে।’

কংগ্রেসের এমন বক্তব্যে পাত্তা দিতে নারাজ গেরুয়া শিবির বিজেপি।

বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আরপি সিং জানান, ‘পরিবারতন্ত্রের দিন শেষ হয়ে গেছে। সরকারি ভবনের জন্য কংগ্রেসকে অবশ্যই টাকা দিতে হবে। আমাদের সরকারের সময় যারা সরকারি ভবনে আছে, তাদের অবশ্যই ভাড়া দিতে হবে এবং মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তা ছেড়ে দিতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত