সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তের জট খুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ দাবি করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ডিআরইউ চত্বরে এক প্রতিবাদ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।
ডিআরইউর সদস্য সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি হত্যার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করে সংগঠনটি।
গত দশ বছরে ৮৫ বার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পরিবর্তনে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিক নেতারা বলেন, তদন্ত কার্যক্রমে পুলিশের ওপর আমরা আস্থা পাচ্ছি না। বারবার ব্যর্থ হচ্ছে তদন্ত কর্মকর্তারা। এ জন্যই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দরকার।
এদিকে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা-র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) খুব দ্রুত এই মামলার তদন্ত সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে যেসব তথ্য-উপাত্ত ও আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার, র্যাব তা করেছে। আমরা আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে পারব।
প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ডিআরইউ সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু বলেন, সাগর-রুনি হত্যার বিচারের দাবিতে আগামী রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। আমরা একই দাবিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করব।
ডিআরইউ এর সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিবের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, যুগ্ম সম্পাদক শাহনাজ শারমীন, অর্থ সম্পাদক এসএমএ কালাম, নারী বিষয়ক সম্পাদক তাপসী রাবেয়া আঁখি, তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক কামাল মোশারেফ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাদিয়া শারমিন, আপ্যায়ন সম্পাদক মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান ও কল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবলু।
প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের যুগ্ম মহাসচিব শেখ মামুনুর রশিদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, ডিআরইউর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, সাবেক সহসভাপতি আজমল হক হেলাল, সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য কুদরাত-ই খোদা এবং মইনুল আহসান।
সাগর সারওয়ারের শেষ কর্মস্থল মাছরাঙা টেলিভিশনের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন প্রধান বার্তা সম্পাদক ও ডিআরইউ এর সাবেক অর্থ সম্পাদক রাশেদ আহমেদ।
নেতারা বলেন, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনিকে নৃশংসভাবে নিজ বাসায় হত্যা করা হয়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, হত্যাকাণ্ডের দশ বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকারীদের আজও শনাক্ত কিংবা গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিচার প্রক্রিয়াও থমকে আছে। এমনকি ৮৫ বার মামলার চার্জশিট প্রদানের তারিখ নেয়া হয়েছে।
নেতারা অবিলম্বে এই মামলার দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি করে বলেন, এভাবে সভা-সমাবেশ করলে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টনক নড়বে না। এ জন্য প্রয়োজন সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।
উল্লেখ্য, সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যার বিচারের দাবিতে এবার ডিআরইউ তিন দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে; যার প্রথম দিন ছিল মোমবাতি প্রজ্বলন। ডিআরইউ চত্বরে বৃহস্পতিবার রাতে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচিতে সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি দম্পতির একমাত্র সন্তান মাহির সারওয়ার মেঘ এবং রুনির ভাই নওশের রোমান উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত দ্রুত শেষ করবে র্যাব: এদিকে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে যেসব তথ্য-উপাত্ত ও আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার, র্যাব তা করেছে। আমরা আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে পারব।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আশার কথা জানায় বাহিনীটি।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি। এ ঘটনার দুই মাস পর হত্যা মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব, তবে প্রায় ১০ বছরেও তদন্ত শেষ করতে পারেনি বাহিনীটি। আদালতে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা পিছিয়েছে ৮৫ বার। এমন বাস্তবতায় মামলার অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেন র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘র্যাব যখন মামলার তদন্ত করে, তখন সর্বোচ্চ পেশাদারত্বের মাধ্যমে করে থাকে। সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত র্যাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত ১৬০ জনের সাক্ষ্য নিয়েছে র্যাব।
