এবার কানাডার নাগরিকদের দ্রুত ইউক্রেন ছাড়ার নির্দেশ

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:০০ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার কানাডাও তার নাগরিকদের দ্রুত ইউক্রেন ছাড়ার নিদের্শ দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জয় শুক্রবার রাতে এ নির্দেশনা জারি করেন।

মেলানি জয় বলেছেন, যে কোনো সময় ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। তাই ইউক্রেনে অবস্থানরত কানাডার সব নাগরিকের উচিৎ দ্রুত ইউক্রেন ত্যাগ করা বা দেশে ফিরে আসা।

এক বিবৃতিতে মেলানি জয় বলেন, আমরা খুব নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের কূটনীতিকরা সাধারণ নাগরিকদের দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করার জন্য ইউক্রেনে অপেক্ষা করছেন।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইসরায়েল তাদের নাগরিকদের ইউক্রেন থেকে দেশে ফিরতে বলেছে।

তবে সীমান্তে এক লাখের বেশি সেনা মোতায়েন করার পরও ইউক্রেনে কোনো আগ্রাসন চালানোর পরিকল্পনার কথা বারবার অস্বীকার করে আসছে রাশিয়া।

তবে প্রতিবেশী বেলারুশের সঙ্গেও বড় আকারের সামরিক মহড়া শুরু করেছে মস্কো। রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের সঙ্গে ইউক্রেনের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। বেলারুশ রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ইউক্রেনের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।

এ সামরিক মহড়া উপলক্ষ্যে বেলারুশে যে সৈন্য সমাবেশ করেছে, রাশিয়া তাকে স্নায়ুদ্ধের পর বৃহত্তম মহড়া বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ইউক্রেনের সংলগ্ন দ্বীপ ক্রিমিয়া ও দেশটির নিকটবর্তী আরও কয়েকটি এলাকায় সেনা উপস্থিতি বাড়াচ্ছে রাশিয়া।

মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি ম্যাক্সার টেকনোলজিস শুক্র ক্রিমিয়া ও তার আশপাশের এলাকার কিছু স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করেছে। সেসব চিত্র বিশ্লেষণ করে জানা গেছে- ক্রিমিয়া, দেশের পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা ও বেলারুশে সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে ম্যাক্সার টেকনোলজির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার এসব ছবি তোলা হয়েছে। সেসব ছবিতে ক্রিমিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর সিম্ফেরোপোলের অক্টায়াব্রেসকোয়ে বিমানঘঁটিতে অন্তত ৫৫০ টি সেনা ছাউনি ও কয়েকশ সামরিক যানের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা আগে ছিল না।

এছাড়া, নতুন করে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে ক্রিমিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চল নভুজেরানয়ের স্ল্যাভনে শহরেও।

২০১৪ সালে রুশ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহায়তায় ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া ছিনিয়ে নিয়েছিল রাশিয়া। কৃষ্ণসাগরের এই দ্বীপটির ওপর নিজেদের দখল নিরাপদ রাখতেই সেখানে সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে বলে মনে করছেন পাশ্চাত্যের আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

ক্রিমিয়া ছাড়াও রাশিয়ার অন্যতম মিত্র দেশ বেলারুশ ও দেশটির পশ্চিাঞ্চলের সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ক্রুস্ক ট্রেইনিং এরিয়াতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রুশ সেনা ও সামরিক যানের উপস্থিতি দেখা গেছে বলে জানাচ্ছে ম্যাক্সারের স্যাটেলাইট চিত্র। বর্তমানে বেলারুশের সঙ্গে ১০ দিনের সামরিক মহড়া করছে রাশিয়া।

রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ক্রুস্ক ট্রেইনিং এরিয়ার অবস্থান ১১০ কিলোমিটার পূর্বে। গত প্রায় ২ মাস ধরে ওই সীমান্তে প্রায় ১ লাখ রুশ সেনা অবস্থান করছে।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অঙ্গরাজ্য ও রাশিয়ার প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইউক্রেন কয়েক বছর আগে ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য আবেদন করার পর থেকেই উত্তেজনা শুরু হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে। সম্প্রতি ন্যাটো ইউক্রেনকে সদস্যপদ না দিলেও ‘সহযোগী দেশ’ হিসেবে মনোনীত করার পর আরও বেড়েছে এই উত্তেজনা।

১৯৪৯ সালে গঠিত পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোকে রাশিয়া বরাবরই পাশ্চাত্য শক্তিসমূহের আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার মনে করে আসছে। এবং ঐতিহাসিকভাবেই বিশ্বের বৃহত্তম দেশ রাশিয়া পাশ্চাত্য আধিপত্যবাদের বিরোধী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত