কোমল পানীয় প্রস্তুতকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কোকা কোলার প্রযোজনায় আয়োজিত ফিউশন ভিত্তিক গান নিয়ে টেলিভিশন সিরিজ ‘কোক স্টুডিও বাংলা’ বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে।
গত সোমবার ঢাকার একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্যোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করে কোকা কোলা বাংলাদেশ।
বাংলাদেশে কোক স্টুডিওর প্রথম সিজনে মোট দশটি পর্ব থাকবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
সংগীতে ফিউশনের ফলে লোকগান মৌলিকতা হারিয়ে ফেলবে বলে অনেকে ধারণা করছেন। ফলে কোক স্টুডিওর এই উদ্যোগ নিয়ে ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
লোকগানের শিল্পী শাহনাজ বেলী বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘ফিউশন বা মিক্সড করার কারণে অনেক সময় গান মৌলিকতা হারায়, লোকগান আবেদন হারায়- যেটি সমর্থনযোগ্য নয়। এ ছাড়া আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে লোকগান পরিবেশন করলেও অনেক সময় লোকগানের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থাকে না।’
এর ফলে অনেক সময় প্রকৃত শিল্পীরা আর্থিকভাবে এবং সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে মনে করেন শাহনাজ বেলী।
এ ছাড়া আরেকটি বিতর্কও তৈরি হয়েছে নাম নিয়ে। ভারতে ২০১১ সালে এবং পাকিস্তানে ২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করা কোক স্টুডিও। উপমহাদেশের ওই দুই দেশে ‘কোক স্টুডিও ইন্ডিয়া’ এবং ‘কোক স্টুডিও পাকিস্তান’ বলেই পরিচিত। কিন্তু দেশে যাত্রা শুরু করা কোক স্টুডিও-এর নামে বাংলাদেশ যুক্ত না হয়ে বাংলা যুক্ত হওয়ায় মূলত নাম নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে লিখছেন, দেশের নাম না হয়ে ভাষার নাম হওয়ায় দেশের অন্য ভাষার গান (বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর) উপেক্ষিত হবে।
নাম বিতর্কের বিষয়ে অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বিজ্ঞাপনী সংস্থা গ্রে অ্যাডভারটাইজিং বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কান্ট্রি হেড গাউসুল আলম শাওন জানান, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পটভূমি মাথায় রেখেই অনুষ্ঠানের নামের সাথে ‘বাংলা’ শব্দটি সংযুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ‘বাংলাদেশ পৃথিবীর একমাত্র দেশ যে দেশের নাম ভাষার নাম থেকে উৎপত্তি। আমাদের দেশের স্বাধিকার আন্দোলনের শুরুটা হয়েছিল ভাষা আন্দোলন থেকে। তাই এটা রাজনৈতিক বা ধর্মভিত্তিক আন্দোলনের চেয়ে বেশি সাংস্কৃতিক আন্দোলন। ফলে কোক স্টুডিও বাংলা বললে আমরা বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে থাকা ১৭ কোটি মানুষ নয়, একবারে ৪০ কোটি বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারি।’
উল্লেখ্য, কোকা কোলার আয়োজনে ২০০৭ সালে এই ধরনের উদ্যোগ প্রথমে নেয়া হয়েছিল ব্রাজিলে। উপমহাদেশে প্রথম নেয়া হয় পাকিস্তানে ২০০৮ সালে। আর ভারতে এই উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১১ সালে।
