পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশসমূহে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলো থেকে স্বল্পমূল্যে অধিকতর সবুজ, টেকসই এবং উন্নত প্রযুক্তি সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি।
সোমবার জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন কর্তৃক আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা সংক্রান্ত অগ্রাধিকারসমূহ’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ)-এর আওতায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় উন্নয়নশীল দেশসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সম্ভাব্য করণীয়সমূহ তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১১-১৩ মেয়াদে সিভিএফ সভাপতি হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় মেয়াদে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা ৫৫টি দেশের এ ফোরামের সভাপতিত্ব করছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবসমূহ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবহিত করেন। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত কার্যক্রমসমূহও তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় ড. জলবায়ু পরিবর্তনের অতি ঝুঁকিতে থাকা দেশসমূহের উন্নয়ন প্রতিবন্ধকতাসমূহ অতিদ্রুত নিরসন করার জন্য উন্নত দেশসমূহের প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ করে, তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ সকল দেশসমূহের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাবসমূহ প্রশমনের ওপর জোর দেন।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মহাপরিচালক ড. এনগোজি ওকোনিও আইওয়েলা তার বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বাণিজ্য নীতিসমূহে অবশ্যই উন্নয়নশীল দেশসমূহের জন্য বিদ্যমান প্রযুক্তি হতে টেকসই ও সবুজ প্রযুক্তিতে স্থানান্তরের যথাযথ সুবিধা ও ব্যবস্থা থাকতে হবে।
তিনি জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশসমূহে অধিকতর অর্থায়ন ও বাণিজ্য সহায়তা প্রদানের জন্য উন্নত দেশসমূহকে আহ্বান জানান।
জেনেভাস্থ বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে অন্যদের মধ্যে বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থার মহাপরিচালক ড. দারেন তাং, জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার উপ-মহাসচিব ইসাবেল ডুরান্ট, জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থার উপ-মহাপরিচালক হিরোশি কুনিওশি, সিভিএফ সভাপতির বিশেষ দূত মো. আবুল কালাম আজাদ, সাউথ সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ড. কর্লোস মারিয়া কোরেয়া এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, ভারত ও বার্বাডোসের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
