নানামুখী সংকটে বিশ্ব

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:০৭ পিএম

মহামারীতে বিপর্যস্ত বিশ্ব এখন নানামুখী সংকটে। সামাজিক অসাম্যের বাড়বাড়ন্তের মধ্যে আছে প্রত্যক্ষ যুদ্ধের ঝুঁকিও। ভূ-রাজনীতির কলকাঠি নড়াচড়ায় টালমাটাল বিশ্বের অর্থনীতিও। সব মিলিয়ে যখন বিশ্ব অনেক সংকটের মুখোমুখি তখন জার্মানিতে বসছে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন। আজ শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এ সম্মেলনে ৩৫টি রাষ্ট্রের প্রধান এবং বিভিন্ন দেশের শতাধিক মন্ত্রীর যোগ দেওয়ার কথা। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস থাকবেন সম্মেলনের অন্যতম বক্তা হিসেবে। সম্মেলন উপলক্ষে ১৮২ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। মিউনিখ নিরাপত্তা প্রতিবেদন শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও এলাকার নানামুখী নিরাপত্তা সংকটের বিষয়টি।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তা নিয়ে দুর্ভাবনা বেড়েছে। তাই মিউনিখ নিরাপত্তা প্রতিবেদনের পরিসরও বেড়েছে। ২০১৫ সালের প্রতিবেদনের প্রথম সংস্করণটি ছিল ৭২ পৃষ্ঠার, এবার তা বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। সম্মেলনের চেয়ারম্যান ভলফগাং ইশিঙ্গারের ভাষ্য, এমন সংকটময় সময় সাম্প্রতিক সময়ে আর আসেনি।

২০০৮ সাল থেকে মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সের (এমএসসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন সাবেক কূটনীতিক ইশিঙ্গার। এমএসসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৬৩ সালে। গত ৫৯ বছরে এমএসসি এমন পরিস্থিতির মুখে আরও পড়ে থাকলেও, তার নেতৃত্বে এই ১৪ বছরে যে পড়েননি সে বিষয়ে ইশিঙ্গার প্রায় নিশ্চিত।

এবারের প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে সারা বিশ্বে পরিচালিত এক সমীক্ষার ভিত্তিতে। সমীক্ষায় বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এই মুহূর্তে কোন বিষয়টিকে তাদের কাছে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তাঝুঁকি বলে মনে হয়? নানা রকমের উত্তর পাওয়া গেছে সেখানে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তাদের কাছে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম ‘সাইবার অ্যাটাক’।

যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ যখন সাইবার-হামলার শঙ্কায় বেশি শঙ্কিত, তখন চীনের বেশিরভাগ মানুষ শঙ্কিত যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে। আবার রাশিয়ার মানুষ কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে এত মাথা ঘামায় না। সমীক্ষা অনুযায়ী, অধিকাংশ রুশ মনে করেন, তাদের সামনে এ মুহূর্তে যে বিষয়টি সবচেয়ে বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়ে, তা হলো সমাজে ক্রমেই বেড়ে চলা অসাম্য। অন্যদিকে ভারতের বেশিরভাগ মানুষের ভাবনা কিন্তু একেবারে অন্যরকম। সাইবার আক্রমণ, যুক্তরাষ্ট্র, ভারতের ‘চিরশত্রু’ পাকিস্তান, সমাজে বেড়ে চলা অসাম্য এসবের কোনোটিই বড় দুশ্চিন্তা নয় তাদের কাছে। ভারতীয়দের কাছে এই মুহূর্তে বড় দুশ্চিন্তা হলো ভয়াবহ পারমাণবিক হামলার শঙ্কা।

এবারের ১৮২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। আফগানিস্তান থেকে তড়িঘড়ি বিদেশি সৈন্য প্রত্যাহার, মালির ক্রমেই খারাপ হতে থাকা নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ অঞ্চলের অস্থিতিশীলতাসহ আরও অনেক বিষয়েরই বিশ্লেষণ রয়েছে এ প্রতিবেদনে।

মিউনিখ সম্মেলনে ভিআইপি অতিথির তালিকায় আরও থাকবেন ন্যাটো মহাসচিব ইয়েন্স স্টলটেনবার্গ। জার্মানির নতুন সরকারের অংশগ্রহণও থাকবে চোখে পড়ার মতো। নতুন চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ তো মিউনিখে যাবেনই, তার মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যও থাকবেন সেখানে। যুক্তরাষ্ট্রেরও বেশ বড় একটি প্রতিনিধিদল থাকবে মিউনিখ সম্মেলনে। সেই দলের নেতৃত্বে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।

চীন জানিয়েছে, তারাও অংশ নেবে তবে সশরীরে নয়। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিডিও বার্তা পাঠাবেন পেইচিং থেকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত