ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্নাটক সরকারের সংখ্যালঘু বিভাগের পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এবার নিষিদ্ধ হল হিজাব। সরকার এক নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, সংখ্যালঘু বিভাগের অধীনে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীরা হিজাব বা অন্য কোনও ধর্মীয় পোশাক পরে যেতে পারবে না।
সংখ্যালঘু কল্যাণ, হজ এবং ওয়াকফ বিভাগের সচিব মেজর পি মনিভান্নান ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে বিজ্ঞপ্তিটি জারি করেন। তাতে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু বিভাগ এবং মৌলানা আজাদ মডেল স্কুলগুলোর (ইংরেজি মাধ্যম) পরিচালিত আবাসিক স্কুলগুলোতে ধর্মীয় পোশাকের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে।
এর আগে কর্নাটক হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করে বলেছিল, আপাতত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কোনরকম ধর্মীয় পোশাক পরা থেকে বিরত থাকতে হবে। কর্নাটক হাইকোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ জানায়, বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আপনাদের এরকম সব ধর্মীয় পোশাক পরার ওপর জেদ ধরে থাকা উচিত নয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে হিজাব পরিহিত কিছু মুসলিম মেয়েকে কর্নাটকের উদুপির একটি সরকারি কলেজে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে একাধিক কলেজে সেরকম নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। গত কয়েকদিনে সেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার সকালেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উদুপির মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল কলেজে। গেরুয়া স্কার্ফ ও পাগড়ি পরে কলেজের বাইরে জড়ো হন একদল শিক্ষার্থী। ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে থাকেন তারা।
হিজাব পরা ছাত্রীদের দাবি, অধ্যক্ষ ক্লাসে ঢুকতে দেননি। একাধিক কলেজে সেরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিক্ষোভ, পালটা বিক্ষোভ হয়। তারইমধ্যে একগুচ্ছ আবেদন দায়ের হয় হাইকোর্টে। মামলাটি এখন বিচারাধীন। এদিকে এই ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও চরমে। ভোটমুখী উত্তরপ্রদেশে এই ইস্যু তুলে একে অপরকে তোপ দেগেছে ভারতের শাসক ও বিরোধী দল।
