খুলনার তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদাহ ইউনিয়নের কুশলা গ্রামে যমজ শিশুকে হত্যার অভিযোগে মা কানিজ ফাতেমা কণাকে আটক করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তেরখাদা থানার এসআই মো. এনামুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, চার বছর আগে তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদাহ ইউনিয়নের কুশলা গ্রামের খোরশেদের মেয়ের সঙ্গে মোল্লারহাট উপজেলার মাতারচর গ্রামের মোল্লা আবু বক্কারের ছেলে মাসুম বিল্লাহর বিয়ে হয়। বিয়ের তিন বছরের মাথায় তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এরপর কণাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
‘সন্তান জন্মের পর থেকে গত দু’মাস ১১ দিন বাবার বাড়িতে অবস্থান করেন তিনি। বাচ্চা দু’টি অনেক কান্নাকাটি করত। এ বিষয়ে কণা স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বলা হয়, আগামী মাসে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু এর আগে যমজ শিশুকে হত্যা করেন কণা।’
পুলিশ জানায়, মনি ও মুক্তা রাতে কান্নাকাটি করছিল। প্রথমে কণা তাদের দুধ খাওয়ায়। এরপরও তারা থামছিল না। রাত আড়াইটার দিকে বাচ্চা দু’টির মুখে চড় মারেন কণা। পরবর্তীতে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর কি করবেন ভেবে পারছিলেন না কণা। তাই নাটক সাজানোর জন্য বাচ্চা দু’টিকে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।
‘যমজ শিশুর পুকুরে ফেলে দেওয়ার পর ঘরের দরজা খুলে ঘুমিয়ে পড়েন কণা। যেন বিষয়টি কেউ আঁচ করতে না পারে। ঠিক এর দুই ঘণ্টা অর্থাৎ রাত চারটার দিকে ঘুম থেকে উঠে চিৎকার করেন তিনি। পাড়ার লোকজন তাদের বাড়িতে জড়ো হয়। এরপর সবাই যমজ শিশুদের খোঁজ নিতে থাকেন।’
সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে দু’জনের লাশ উদ্ধার করেন নানি শরিফা খাতুন ও মামা নুর আলম।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লাশ দুটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এরপর ওই পরিবারের প্রতিটি সদস্যর ওপর নজর রাখেন এ কর্মকর্তা। পরবর্তীতে বিকেলে কণা, তার বাবা ও মাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নেওয়া হয়।
‘জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে কণা অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন এবং কণা যমজ শিশু হত্যার কারণ পুলিশের কাছে ব্যাখ্যা করেন। পরে অপর দু’জনকে ছেড়ে দিয়ে কণাকে আটক রাখে। যমজ শিশু হত্যার দায়ে শুক্রবার রাতে বাবা মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।’
