প্রথম স্ত্রীর খোঁজ নেননি ১৫ বছর, দ্বিতীয় স্ত্রীকে ভালোবেসে ভাইরাল

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৮:৪০ পিএম

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সোহেল-রওশন দম্পতির ভালোবাসা অনেকেরে হৃদয় ছুঁয়েছে। কিন্তু ভাইরাল হওয়া সোহেলের স্ত্রীর প্রতি প্রেমে অনেকে মুগ্ধ হলেও মেনে নিতে পারছেন না সোহেলের ১৫ বছর আগে ফেলে আসা প্রথম স্ত্রী।

ভালোবাসা দিবসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ময়মনসিংহের ত্রিশালের প্রতিবন্ধী স্ত্রী রওশন আরাকে ঘাড়ে নিয়ে চলাফেরা করে অনেকের মন জয় করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র পরিচয় দেয়া সোহেল। আর তার বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় উল্লেখ্য করা হয়। তবে তার প্রকৃত বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের শামপুর গ্রামে বলে দাবি করেছেন এলাকার লোকজন।

এলাকাবাসী জানান, ভাইরাল হওয়া সোহেলের প্রকৃত নাম মোকলেসুর রহমান বকুল। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল হামিদ। প্রায় ২০ বছর পূর্বে একই ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামের সাজ্জাদ আলীর মেয়ে শুরাতন বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। সেই সংসারে তাদের ৩ ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

তার প্রথম স্ত্রী দাবি করা শুরাতন বেগম জানান, অনেক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ায় তার স্বামী প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের রেখে চলে যান। চলে যাওয়ার পর তাদের কোনো খোঁজখবর রাখেনি তিনি। তিনি অনেক কষ্টে সন্তানদের বড় করছেন। টিভিতে ভাইরাল হওয়া ছবি দেখে তিনি চিনতে পারেন তার স্বামীকে।

সোহেল মিয়া ওরফে বকুল বলেন, ‘আমি ঢাকায় চাকরিরত অবস্থায় রওশনের সঙ্গে প্রেম হয়। আমি আগের স্ত্রীকে রওশনের কথা বলেছি। তাদের জানিয়ে বিয়ে করেছি। রওশনও আগের স্ত্রীর কথা জানে। আমি রওশনকে নিয়ে থাকতে চাই। আগের স্ত্রী সন্তান আমাকে গ্রহণ করবে না, আমিও তাদের কাছে যাব না। আমি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি, পড়াশোনার কথা মিথ্যা বলেছি আপনাদের কাছে ক্ষমা চাই।’

রওশন আরা বলেন, ‘আমি আমার স্বামীর আগের অতীত সবকিছু জেনেই বিয়ে করেছি। আমার সঙ্গে সে কোনো প্রতারণা করেনি। আমার প্রতি তার ভালোবাসার কোনো কমতি নেই। আমার বড় আপা (সতিন) কে বলব সন্তানসহ আমার এখানে একসঙ্গে থাকলেও আমার কোনো সমস্যা নাই।’

উল্লেখ্য, তাদের ভালোবাসার গল্প বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশিত হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসে বিষয়টি। পরে তিনি ত্রিশালের উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আকতারুজ্জামানকে তাদের খোঁজ খবর নেয়ার নির্দেশ দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত