ফোনালাপ ফাঁস: আইনমন্ত্রী ও উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি বিএনপির

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৬:১৯ পিএম

আইনমন্ত্রী ও সরকারের এক উপদেষ্টার ফাঁস হওয়া ফোনালাপকে লুটপাটের অডিও দলিল বলে দাবি করেছে বিএনপি। এ ঘটনায় দলটি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সরকারের বিনিয়োগ ও তথ্য উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের পদত্যাগ দাবি করেছে।

মঙ্গলবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দুর্নীতি নিয়ে সরকারের দুই ক্ষমতাধরের কথোপকথন আইনমন্ত্রী স্বীকার করেছেন। তাই কালবিলম্ব না করে অবশ্যই তা তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে হবে। দুর্নীতির সঙ্গে বিচার বিভাগকে জড়িয়ে ফেলার স্বীকৃত অপরাধকে আলাদাভাবে বিবেচনায় নেবার দাবি জানাচ্ছে বিএনপি।’

তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর কাছে আজ একটি বিষয় খুবই স্পষ্ট যে দেশে এখন দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেই চলমান এই লুটপাট আর দুর্নীতিকে পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে। মন্ত্রী-এমপি-প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, ক্ষমতাসীন দলের মেয়র, চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে দুর্নীতির সুযোগ নিচ্ছে না। রাষ্ট্রীয় বাহিনী সমূহের কতিপয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ গোটা প্রশাসনকে অংশীদার করা হয়েছে দুর্নীতির এই চক্রের সঙ্গে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংবিধান ও রাষ্ট্রের অভিভাবক খোদ বিচার বিভাগকেও এখন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। দুর্নীতিতে যুক্ত হয়ে সরকারি দলের লোকেরা এখন দিগ্‌বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পরেছে। নিজেদের অপকর্ম এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শত চেষ্টা করেও আর তা তারা চেপে রাখতে পারছে না। কোনো না কোনো উপায়ে তা প্রকাশ্যে চলে আসছে। ভেসে বেড়াচ্ছে ভার্চুয়াল জগতে। ফাঁস হয়ে যাচ্ছে নানান অপকর্মের কুৎসিত চিত্র।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘সম্প্রতি চাঁদপুরে বিজ্ঞান ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণে শিক্ষামন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগসহ যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও প্রায় সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সম্প্রতি এই কর্তৃত্ববাদী অবৈধ সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের টেলিফোন কনভারসেশন (কথোপকথন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সকল গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। যাতে এই সরকারের দুর্নীতির একটি প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মন্ত্রী ও উপদেষ্টার বক্তব্যের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে। তাই জাতির কাছে বিষয়টি আজ এটি একটি প্রমাণিত সত্যের দলিল।’

তিনি বলেন, ‘ফোনালাপের সময় উপদেষ্টা সালমান রহমানের একটি রিট পিটিশন কোন আদালতে হবে, কোন বিচারপতি শুনানি করবেন সে বিষয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে শোনা যায়। বিচারপতিদের নামও উল্লেখ করা হয়। সর্বশেষে ওয়াসার একটি প্রকল্প নিয়ে তারা কথা বলেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফোনালাপ ফাঁসের পর নিজের কথাবার্তাকে ধামাচাপা দিতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবার কোনো প্রয়োজন নেই বলে দাবি করেছেন। বলেছেন, একটি “ইনোসেন্ট কনভারসেশনকে”ভিন্ন খাতে নেবার ষড়যন্ত্র করে একটি দেউলিয়া গোষ্ঠী ফোনালাপটি ফাঁস করেছে। লক্ষণীয় তিনি ফোনালাপের কোনো বিষয়বস্তু অস্বীকার করেননি। বরং “ইনোসেন্ট কনভারসেশনের” মোড়কে তা অস্বীকার করেছেন। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল দাবি করেছেন ফোনালাপ রেকর্ড করার ব্যবস্থাই নাকি নেই সরকারের কাছে। তিনি জানান এটা তদন্ত করা হবে। ফোনালাপ ফাঁস করার জন্য আইনমন্ত্রী যে মহলের দিকে আঙুল তুলেছেন তারা কারা, জানতে চান ফখরুল।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত