ইউক্রেনে হামলা বন্ধে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আলোচনার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ।
বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে উভয়দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক হবে- উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে পেসকভ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, লুহানস্ক ও দোনেতস্ককে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর আক্রমণ থেকে রক্ষা করতেই মূলত সাম্প্রতিক এই সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল’।
‘আমরা আনন্দিত যে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহ জানিয়েছেন’।
বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নিতে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে টেলিফোনে ভ্লাদিমির পুতিনের কথা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান পেসকভ।
‘আজ (শুক্রবার) বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিনের টেলিফোনে আলাপ হয়েছে। বেলারুশের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, বৈঠক আয়োজনের জন্য উভয়পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও সমন্বয় রক্ষার কাজটি তিনি করবেন’।
এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছিলেন, মস্কো কিয়েভের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো- ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে।
শুক্রবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রুশ সৈন্যদের প্রবেশের পর এক বার্তায় লাভরভ আরও বলেন যে, রাশিয়া চায় ইউক্রেনের জনগণ স্বাধীন হোক এবং স্বাধীনভাবে তাদের ভাগ্য নির্ধারণের সুযোগ থাকুক। তবে প্রতিবেশী এই দেশটি নব্য-নাৎসিদের শাসনে চলুক তা মস্কো কখনই চায় না।
ল্যাভরভ বলেন, ‘মস্কো কিয়েভের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী অস্ত্র জমা দিলেই তা সম্ভব হবে। মস্কো চায় না ‘নব্য-নাৎসিরা’ ইউক্রেন শাসন করুক’।
তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার শর্তেই আলোচনায় বসবেন কিনা সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ইউক্রেনে হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। রুশ সৈন্যরা উত্তর, দক্ষিণ এবং পূর্ব দিক দিয়ে ইউক্রেনে ঢুকে পড়ে, বড় বড় শহর ও সেনা ঘাঁটিতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যায়। হামলার দ্বিতীয় দিনেই রুশ সেনারা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ঢুকে পড়েছে।
শুক্রবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের প্রধান একটি বিমানবন্দর এবং বিমানঘাঁটি দখলে নিয়ে নিয়েছে রাশিয়ান সেনারা। প্রায় ২০০ হেলিকপ্টার ব্যবহার করে অভিযান চালিয়ে ইউক্রেনের দুই শতাধিক সৈন্যকে হত্যার পর হোসটোমেল নামের ওই বিমান ঘাঁটি দখল নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
এর আগে রাশিয়ান সেনারা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আন্তোনভ নামের আরেকটি বিমান ঘাঁটিও দখল করে নেয়।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করছে, তাদের সঙ্গে যুদ্ধের দুদিনেই রাশিয়ার ১,০০০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছে।
