বশেমুরবিপ্রবিতে ছাত্রী ধর্ষণ

অশালীন মন্তব্য-মারধরের পর তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ: র‌্যাব

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:৩৯ পিএম

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা প্রত্যেকে অপরাধী চক্রের সদস্য বলে জানিয়েছে র‌্যাব।  

র‌্যাব জানিয়েছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ইজিবাইকে করে ওই শিক্ষার্থী ও তার বন্ধু নবীনবাগ হেলিপ্যাড সংলগ্ন এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে তারা (গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা) ইজিবাইক থামিয়ে তাদের নাম-পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন এবং বিভিন্ন ধরনের অশালীন মন্তব্য করতে থাকেন। পরে ওই দুই শিক্ষার্থী ইজিবাইকে করে চলে যাচ্ছিলেন। তবে ওই যুবকেরা আরেকটি ইজিবাইক নিয়ে পেছন থেকে তাদের ধাওয়া করে আটকে ফেলেন।

‘এ সময় পাঁচ যুবকের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থী ও তার বন্ধুর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বন্ধুকে মারধর করে তাদের জোর করে ঘটনাস্থলের পাশে ঢালু জায়গায় নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর পাঁচ যুবকের একজন ফোন দিয়ে আরেকজনকে ডেকে এনে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন।’

শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।

দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাতে ছয়জনকে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

গ্রেপ্তাররা হলেন- রাকিব মিয়া ওরফে ইমন (২২), পিয়াস ফকির (২৬), প্রদীপ বিশ্বাস (২৪), নাহিদ রায়হান (২৪), মো. হেলাল (২৪) ও তূর্য মোহন্ত (২৬)।

খন্দকার আল মঈন বলেন, ধর্ষণে জড়িত ব্যক্তিরা পেশাদার অপরাধী। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দলবদ্ধ ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে র‍্যাব দাবি করে।

আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মূলত রাকিবের নেতৃত্বে স্থানীয় একটি অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা গোপালগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। গ্রেপ্তার তূর্য মোহন্ত ছাড়া এই চক্রের অন্য সবাই ৮ থেকে ১০ বছর ধরে নবীনবাগ এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদকসেবন, আড্ডা, জুয়া, চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন। ঘটনার দিনও তারা হেলিপ্যাড এলাকায় মদের আসর বসিয়েছিলেন। তারা বিভিন্ন সময় রাস্তাঘাটে স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করতেন বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলাও রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে আল মঈন বলেন, চক্রটি এই প্রথম ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে ভুক্তভোগী ও তার বন্ধু কেউই অপরাধীদের চিনতেন না।

গ্রেপ্তার ছয়জনই কি ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত, জানতে চাইলে আল মঈন বলেন, ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর গোয়েন্দা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ওই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তার রাকিব মিয়া ওরফে ইমন স্থানীয় একটি ক্লিনিকে অভ্যর্থনাকারী হিসেবে চাকরি করেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ও মারামারির মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। পিয়াস ফকির গোপালগঞ্জের একটি পাওয়ার হাউসে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন। প্রদীপ বিশ্বাস গোপালগঞ্জে এসি ও ফ্রিজ মেরামতের কাজ করেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তার নাহিদ রায়হান স্থানীয় একটি কলেজে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। আর হেলাল স্থানীয় একটি কলেজে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। তূর্য মোহন্ত খুলনার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৮ সালে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন। পরে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে অধ্যয়নের জন্য বিদেশে যান। শেষ বর্ষে থাকাকালে কোভিড পরিস্থিতির কারণে তিনি দেশে চলে আসেন এবং গোপালগঞ্জে সদরে গার্মেন্টস পণ্য নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন বলে জানা যায়। তূর্যের বিরুদ্ধে একটি মারামারির মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।

২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ভুক্তভোগীসহ দুই শিক্ষার্থী গোপালগঞ্জ সদরের নবীনবাগ হেলিপ্যাডের সামনে থেকে হেঁটে মেসে যাওয়ার সময় দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। সারা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত