ডিশ ব্যবসা নিয়ে যুবলীগ ও মেম্বার সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৩৫

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৬:২৬ পিএম

সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নে ডিশ ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও স্থানীয় মেম্বার গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩৫ জন লোক আহত হয়েছে।

শনিবার সকালে শিমুলিয়া ইউনিয়নের রনস্থল নামক এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

আহতদের মধ্যে প্রায় ২০ জনকে গুরুতর অবস্থায় বাংলাদেশ কোরিয়া মৈত্রী হাসপাতাল এবং সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

থানা-পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের রনস্থল এলাকায় ডিশ ব্যবসায়ের আধিপত্য নিয়ে শিমুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আমির হোসেন জয় ও ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এরই জের ধরে শনিবার সকালে প্রথমে আমির হোসেন জয়ের ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ রনস্থল এলাকায় গিয়ে জাহাঙ্গীর আলমের লোকজনের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেছে।

তারা আরও জানায়, এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম ক্ষিপ্ত হয়ে লোকজন নিয়ে আমির হোসেন জয়ের রনস্থল এলাকার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও পরিবারের লোকজনকে মারধর করে। এতে তার মা জাহেলা বেগম, বাবা হাজী আতাউর রহমানসহ ১৩ জন গুরুতর আহত হয়ে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানতে চাইলে শিমুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আমির হোসেন জয় বলেন, তার চাচা শাহ আলম খান ওই এলাকায় ডিশ ব্যবসা করেন। জাহাঙ্গীর আলম নতুন মেম্বার হওয়ার পর চাচার কাছে মাসে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা হামলা চালিয়ে চালিয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মারামারি হয়েছে ডিশ ব্যবসা নিয়ে। জয়ের চাচা শাহ আলম খান দীর্ঘদিন ডিশ ব্যবসা করে আসছেন। কে বা কাহারা ডিশের লাইন কেটেছে তার দায় আমার এবং আমার লোকজনের ওপর চাপিয়েছেন। এ ঘটনায় সমাধানের দিকে না গিয়ে জয়ের ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ আমার লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে অন্তত ২০ জনকে গুরুতর আহত করেছেন। ওই সময় আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি মধু ভাইয়ের সঙ্গে স্থানীয় এক সালিসে উপস্থিত ছিলাম।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুর মোহাম্মদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মারামারির ঘটনা ঘটেছে এবং উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়েছে। তবে লিখিত অভিযোগ করলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মামলা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত