জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, ‘নবনিযুক্ত নির্বাচন কমিশন হচ্ছে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত আমলানির্ভর নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে পারবে বলে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তাদের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে তারা কতটা নিরপেক্ষ।’
রবিবার নতুন ইসি নিয়ে দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
রবিবার নতুন সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনারা শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে শনিবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সিইসি হিসেবে সাবেক সচিব কাজী হাবিবুল আউয়ালকে নিয়োগ দেন। তার নেতৃত্বেই আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পরিচালিত হবে।
তার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর ও আনিছুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ রাশেদা সুলতানা এমিলি এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবীব খান।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এই কমিশনকে নিয়ে ‘আশাবাদী’, আর বিএনপি বলছে, ইসি নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই।
এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় পার্টি ভোটে অংশ নেবে কি না- জানতে চাইলে চুন্নু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি নির্বাচনমুখী দল, নির্বাচনের বাকি আরও দুই বছর। তাই নির্বাচনের আগে আমরা দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেব আমরা নির্বাচনে যাব কি না?’
আইনিভাবে নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতাবান করার দাবি জানান জাতীয় পার্টির এই নেতা।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী নির্বাচনকালীন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করবেন। তারা নির্বাচন কমিশনের আদেশ শুনতে বাধ্য। কিন্তু, না শুনলে কী হবে, সে বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। আমাদের দাবি ছিল, নির্বাচনকালীন সময়ে কমিশনের কথা কেউ না শুনলে তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নিতে পারে, সেই ক্ষমতা দিয়ে একটি আইন করতে হবে। সেই আইন সরকার করেনি।’
নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাবান না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন করা দুরূহ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কেউই নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ জিতলে বিএনপি বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি আবার বিএনপি জিতলে আওয়ামী লীগ বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। জাতীয় পার্টি সব সময় বলে আসছে, বাংলাদেশে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনেও নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না। গেল ত্রিশ বছরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিই প্রমাণ করেছে কেয়ারটেকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না।’
রাজনৈতিক দলগুলো একমত না হলে কখনোই বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভবপর হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকার বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে দলের কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাও উপস্থিত ছিলেন।
