দেশ ও জনগণের সেবায় ২০২১ সালে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী বীর পুলিশ সদস্যদের শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণের মধ্য দিয়ে পালিত হলো পুলিশ মেমোরিয়াল ডে-২০২২।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ চত্বরে নবনির্মিত পুলিশ মেমোরিয়ালে বীর পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ এবং জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় একটি সুসজ্জিত পুলিশ দল গার্ড অব অনার প্রদান করে।
পুলিশের সকল মেট্রোপলিটন, রেঞ্জ এবং জেলা ইউনিটে যথাযোগ্য মর্যাদায় পুলিশ মেমোরিয়াল ডে-২০২২ পালিত হচ্ছে।
পরে পুলিশ স্টাফ কলেজ কনভেনশন হলে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গকে স্বীকৃতি স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন বলেন, পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার মতো চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব পালন করে থাকে। এ কাজগুলো বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। এগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়ন না হলে সমাজে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা ঘটে, উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। পুলিশ এ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে।
তিনি বলেন, পুলিশের ছোটখাটো কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা তা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে থাকি। তার চেয়ে আমরা এমন ভাবতে পারি যে, পুলিশ জেগে থাকে বলেই রাতে আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পারি।
আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলেন, ২০২১ সালে আমরা ৩৪৬ জন সহকর্মীকে হারিয়েছি। এর মধ্যে ১৩৮ জনকে কর্তব্যরত অবস্থায় হারিয়েছি।
তিনি বলেন, হিরোকে যে জাতি স্বীকৃতি দিতে পারে না, সে জাতি হিরো তৈরি করতে পারে না।
বাঙালিকে বীরের জাতি আখ্যায়িত করে আইজিপি বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা প্রমাণ করেছি জাতিগত বীরেরা কী করতে পারে। যখনই সুযোগ পেয়েছে বাঙালি জাতি প্রমাণ করেছে আমরা হিরো।
তিনি বলেন, শান্তির সময়ে পুলিশ যুদ্ধে লিপ্ত থাকে। এ যুদ্ধ অশান্তির বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, যারা সমাজের শান্তি, নিরাপত্তা বিঘ্ন করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে। আমরা ২৪ ঘণ্টা এ যুদ্ধে লিপ্ত। যুদ্ধ হলে ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত। আমরা যেহেতু প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তার জন্য যুদ্ধ করছি, সেজন্য আমরা প্রতিবছর আত্মত্যাগও করছি।
বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘জুনিয়র কোনো পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর পর পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান পেত পরিবার। তখন বিল পাস করতো জেলা পুলিশ সুপার। সরকার ২০২০ সালে আট লাখ করার পর সেই বিল পাস করে জেলা প্রশাসকরা। এতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। ২০২০ সালে কর্তব্যরত অবস্থায় মারা যায় ৩৭৭ পুলিশ সদস্য। এর মধ্যে মাত্র ৭৯ পরিবার টাকা পেয়েছে। বাকি সব পেন্ডিং।’
স্বরাষ্ট্র সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের জুনিয়র কোনো সদস্য যখন দায়িত্বরত অবস্থায় মারা যায়, তখন পুরো পরিবার অথৈ সমুদ্রে নিক্ষিপ্ত হয়। জেলা প্রশাসকরা অনেক ব্যস্ত থাকেন। এই দায়িত্ব যদি আবারও পুলিশ সুপারদের কাছে যায় তাহলে এই সমন্বয়হীনতা থাকবে না।’
পরে আইজিপি ও সিনিয়র সচিব মঞ্চ থেকে দর্শক সারিতে নেমে এসে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী সাতজন পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহার তুলে দেন।
জীবন উৎসর্গকারী বাকি সদস্যদের পরিবারবর্গকে মেট্রোপলিটন, রেঞ্জ এবং জেলায় সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
