পদত্যাগপত্র লিখে রাখুন, যথা সময়ে বঙ্গভবনে পৌঁছে দেবেন: নতুন ইসিকে গয়েশ্বর

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২২, ০৮:৫৭ পিএম

সদ্যনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও কমিশনারদের পদত্যাগপত্র পকেটে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। 

মঙ্গলবার বরিশালে তেল-গ্যাস-পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে মহানগর বিএনপির  আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান। 

সমাবেশের শুরু থেকে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। জ্যেষ্ঠ নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে সমাবেশ স্থলের হাতাহাতি নগরের সদর রোডেও ছড়িয়ে পড়ে। 

সমাবেশ শুরুর আগে থেকেই বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমবেশে যোগ দেন নেতাকর্মীরা। এ সময় নেতাকর্মীরা সরকার পতনের স্লোগান দেন। 

সমাবেশ কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর ছিলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন (ইসি) আমাদের ইস্যু নয়। আমাদের ইস্যু হলো, গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার, জিনিসপত্রের দাম কমানোর। আমাদের ইস্যু জনগণের নিরাপত্তা। কারণ শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকতে দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করবে-এ কথা কেউ বিশ্বাস করে না। যে বিশ্বাস করবে তার পাগলা গারদে চিকিৎসার দরকার। পাঁচটা ফেরেস্তা ইসি হলেও কোনো লাভ নেই। শেখ হাসিনার মতো একটা সরকার ক্ষমতায় থাকলে। আমাকেও যদি সিইসি বানায়, আমার ভোট আমি দিতে পারব না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগে সরকার যাবে, তারপর এ ইসিকে বিদায় নিতে হবে। নির্বাচনকালীন সরকার আসবে-যেটা জনগণ চায়। তারপর ইসি হবে। নতুন ইসি যদি সৎ ও সম্মানিত লোক হন, প্রস্তুত থাকতে বলব, একটা পদত্যাগপত্র লিখে পকেটে রাখবেন, যথা সময়ে বঙ্গভবনে পৌঁছে দেবেন।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নাম উল্লেখ না করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘কেউ কেউ নতুন ইসিকে সার্টিফিকেট দিতে পারেন। সিইসি ভালো-এ সার্টিফিকেট যিনি দিলেন তিনি তো নির্বাচনও করেন না, কোনো নির্বাচনে দাঁড়ানও না। অতীতেও দাঁড়াননি। সেই নির্বাচন কমিশন ভালো-মন্দে ওনার কী যায় আসে। সুতরাং উনি যদি এ কথা বলে থাকেন, এই নির্বাচন কমিশনকে বিশ্বাস করেন, আমি বলব তারও মনে হয় চিকিৎসার দরকার আছে। কাঁঠাল দিয়ে কখনো আমসত্ব হয় না।’ 

সরকারবিরোধী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আমার মনে হয় নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বন্ধ করা দরকার। সব শক্তিকে একসঙ্গে করে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান। জনগণের বিপক্ষে যারা আছে তাদের নামাতে হবে। তারপর জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে কাকে ভোট দেবে, কাকে ভোট দেবে না। কাকে সরকারে আনবে, কাকে আনবে না। এর বাইরে আর কোনো শব্দ নেই।’ 

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে গয়েশ্বর বলেন, ‘দলের নেতাকর্মী আপনাদের সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে। সরকার যখন বিপদে পড়ে তখন বড় বড় লোভ দেখায়; আবার কাউকে কাউকে ভয় দেখায়। আমরা যেন লোভেও না পড়ি, ভয়েও মাথা নত না করি। জনগণের দল বিএনপি, জনগণের পাশে বিএনপি থাকবে।’

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট মীর জাহিদুল কবির জাহিদের পরিচালনায় অুনষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান খান ফারুক। 

বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) অ্যাভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) আকন কুদ্দুসুর রহমান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) মাহাবুবুল হক নান্নু, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবায়দুল হক চাঁন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন সিকদার, অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুল, উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান নান্টু, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক দেওয়ান মো. শহিদুল্লাহ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত