এফডিসিতে বুধবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় জায়েদ খান ও নিপুণের সমর্থকদের ধাওয়া দিয়েছে পুলিশ। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি আবুল কালাম জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তারা এ অভিযান করেন।
এফডিসিতে ওই সময়ে উপস্থিতরা বলেন, তখন এফডিসির বিভিন্ন সমিতির সদস্য ছাড়াও বহিরাগতরা উপস্থিত ছিলেন। শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনায় বড় অঘটন ঘটার আশঙ্কা ছিল।
শিল্পী সমিতির এক সদস্য বলেন, ‘এফডিসির জীবনে এমন ঘটনা আগে আর ঘটেনি। পুলিশের এমন হঠাৎ ধাওয়া বিস্ময়কর ঘটনা।’
তবে পুলিশের ধাওয়ার পরও নিপুণ ও জায়েদ খান দলবল নিয়ে অবস্থান করছেন এফডিসিতে।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বৈধ বলে বুধবার রায় দেয় হাইকোর্ট। রায় পাওয়ার পর এফডিসিতে ছুটে যান জায়েদ খান। তবে সমিতির গেটে নতুন তালা থাকায় তিনি ঢুকতে পারেননি।
বিকাল ৪টার দিকে এফডিসিতে আসেন জায়েদ খান। এসেই দাঁড়িয়ে ছিলেন শিল্পী সমিতির সামনে। সে সময় তিনি বলেন, ‘সত্যের জয় হয়েছে, হাইকোর্ট আমার পক্ষেই রায় দিয়েছেন। আমি সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম, তারই ফল পেলাম।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার সভাপতির (ইলিয়াস কাঞ্চন) সঙ্গে কথা বলে আমি এফডিসিতে এসেছি। কিন্তু সমিতিতে তালা থাকায় ঢুকতে পারছি না। তালা কে দিয়েছেন, সেটা আমার জানা নেই। তবে আমি সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।’
অন্যদিকে নিপুণ জানান, তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
৮ জানুয়ারি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচন হয়। প্রাথমিক ফলে সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় জায়েদ খানকে। পরে জায়েদের বিরুদ্ধে ‘টাকা দিয়ে ভোট কেনা’সহ নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ আনেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিপুণ। এমনকি এ পদে পুনরায় ভোটের দাবিও তোলেন।
নিপুণের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জায়েদ খানের পদ বা প্রার্থিতা বাতিল হবে কি না- সে বিষয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে এফডিসিতে বসেন শিল্পী সমিতির আপিল বোর্ড। এরপর বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান নিপুণকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন।
এদিকে আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তকে ‘বেআইনি’ বলে দাবি করেন জায়েদ খান। ফলে ৭ ফেব্রুয়ারি বোর্ডে তার প্রার্থিতা বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন জায়েদ।
রিটের শুনানি নিয়ে আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্ত ওইদিনই স্থগিত করেন হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন নিপুণের আইনজীবী।
৯ ফেব্রুয়ারি আপিলের শুনানি নিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন চেম্বার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদের ওপর ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থিতাবস্থা জারি করা হয়।
এ সময়ের মধ্যে জায়েদ-নিপুণ কেউ সম্পাদকের চেয়ারে বসতে পারবেন না বলে জানানো হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের আদেশের ওপর চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশ এবং স্থিতাবস্থা বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আর হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তির জন্য বলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রুলের শুনানির কথা থাকলেও আদালত না বসায় সেদিন শুনানি হয়নি।
