ঝিনাইদহে ওয়াজ মাহফিল শুনতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আবু হুসাইন (১৮) নামে একজন নিহত হয়েছেন। সে সময় আহত হয়েছেন জুলফিককার ও ফিরোজ নামে আপন দুই ভাই।
বুধবার রাতে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মান্দারবাড়িয়া গ্রামের মাদ্রাসা মাঠে ঘটনাটি ঘটে।
নিহত কিশোর আবু হুসাইন শহরের হামদহ শান্তি নগরপাড়া গ্রামের ফল ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলামের ছেলে। আহতরা হলেন- একই এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে ফিরোজ হোসেন ও জুলফিককার হোসেন।
নিহতের বন্ধু সাঈদ হোসেন বলেন, গতকাল রাতে আমরা ৫ বন্ধু মিলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মান্দারবাড়িয়া গ্রামের মাদ্রাসা মাঠে ওয়াজ মাহফিল শুনতে যাই। সেখানে যাওয়ার পর ওই এলাকার জিহাদের সঙ্গে আবু হুসাইনের ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে তারা মাহফিল থেকে সাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিল। পথে গতিরোধ করে জিহাদসহ ১০ থেকে ১২ জন সেভেন গিয়ার (ছুরি) লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা ৩ জনকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
আহতদের মধ্যে হুসাইন ও জুলফিকারের অবস্থার অবনতি হলে তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে হুসাইনের মৃত্যু হয়। আহত ফিরোজ ও জুলফিককার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত আবু হুসাইনের মা লিপি খাতুন বলেন, আমার ছেলের কোন শত্রু ছিল না। কি কারণে আমার ছেলেকে মারা হলো। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে তাদেরকে আমি ফাঁসি চায়।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি শেখ মো. সোহেল রানা জানান, ছুরিকাঘাতের ঘটনায় হুসাইন নামে এক যুবক মারা গেছেন। জুলফিককার ও ফিরোজ আপন দুই ভাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে কি কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে।
