নারায়ণগঞ্জের আলোচিত মা-মেয়ে হত্যা মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসপি জায়েদুল আলম। তিনি বলেন, ঋণগ্রস্ত হওয়ার পর হতাশ যুবক টাকা জোগাড়ের উদ্দেশ্যে ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। তাকে রিমান্ডে আরো ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার ল্যাপটপ, ফেসবুক আইডিসহ ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আমীর খসরু জানান, মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া যুবক জুবায়ের রাতে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে হত্যাকাণ্ডের শিকার মা-মেয়ে ও তার পরিবারের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি তাদের চেনেন না।
জুবায়ের বলেছেন, টাকার জন্যই তিনি মা-মেয়েকে হত্যা করেছেন। তাকে আরও অধিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ ডালপট্টি এলাকায় স্বপন দাসের মালিকানাধীন ৬ তলা ভবনে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- রুমা চক্রবর্তী (৪৬) ও তার মেয়ে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ঋতু চক্রবর্তী (২২)। দুজনের মধ্যে একজনের মরদেহ মেঝেতে ও অপরজনের মরদেহ অর্ধেক খাটের ওপর ছিল। পুরো ফ্লোর ছিল রক্তমাখা। ওই ঘটনায় রক্তমাখা ছুরিসহ জোবায়েরকে এলাকাবাসীর সহায়তায় আটক করে পুলিশ।
জোবায়ের ২০১৩ সালে এইচএসসি পাস করে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন। পরে আর্থিক সমস্যার কারণে তিনি পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন।
