এমভি বাংলার সমৃদ্ধিতে কর্মরত কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সেলিমের বাড়িতে চলছে আহাজারি। গত মঙ্গলবার তার সঙ্গে শেষ কথা হয় পরিবারের। এরপর থেকে সেলিমের ফোন বন্ধ। কোনোভাবেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না পরিবারের সদস্যরা।
তার বড় বোন মর্জিনা বেগম জানান, ১৫ বছর আগে চট্টগ্রাম থেকে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার পাস করে এমভি বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজে চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি জাহাজের সেকেন্ড চিফ অফিসার। পাঁচ ছয়/মাস পর পর ছুটি নিয়ে ভৈরবে আসেন। গত ৫ মাস আগে তিনি ভৈরবে এসেছিলেন। শহরের নিউটাউন এলাকায় তার স্ত্রী সন্তান ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে তিনি জাহাজসহ ইউক্রেনের অলিভা বন্দরে আটকা পড়েন।
সেলিমের স্ত্রী খালেদা বেগম জানান, গত তিনদিন আগে তার সঙ্গে ফোনে কথা হয়। তখন বলেছিলেন যুদ্ধের কারণে সাগরে আটকা পড়েছেন। দোয়া করতে বলেছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। রকেট হামলায় জাহাজে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে জানতে পেরে খুবই দুশ্চিন্তায় আছেন বলে জানান তিনি।
তার বাবা বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলেটা বেঁচে আছে কিনা জানি না। তার স্ত্রীসহ দুটি মেয়ে রয়েছে। টিভির খবরে দেখেছি বাংলাদেশের জাহাজ থেকে সকলকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু আমার ছেলের সঙ্গে তিন দিন যাবৎ যোগাযোগ নেই আমাদের।’
