পেকুয়ায় ইউএনওকে লিখিত অভিযোগ

টিসিবির উপকারভোগীদের তালিকা তৈরিতে স্বজনপ্রীতি

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২২, ১১:৩৮ পিএম

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নে টিসিবি’র (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) উপকারভোগীদের তালিকা তৈরিতে সীমাহীন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে তালিকায় উপকারভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য সরকারি নির্দেশনা থাকলেও ওই সাত ইউনিয়নে তা মানা হয়নি।

সারাদেশে যে ১ কোটি পরিবারকে টিসিবির পণ্য দেওয়া হবে তার অংশ হিসেবে প্রত্যেক ইউনিয়নে এই তালিকা হচ্ছে।

উপজেলার সাত ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা (মেম্বার) স্বজন, নিকটাত্মীয় ও নিজেদের আস্থাভাজন লোকজনকে তালিকাভুক্ত করে গত ৬ মার্চ উপকারভোগীদের তালিকা পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

এভাবে সরকারের একটি জনহিতকর কাজকে বিতর্কের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে ইউএনও বরাবর এলাকার ২০ জনের পক্ষে লিখিত অভিযোগ করেছেন মগনামা ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহমুদল করিম। 

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, উপজেলার সদর, মগনামা, উজানটিয়া, রাজাখালী, বারবাকিয়া, টইটং ও শিলখালী ইউনিয়নে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অতি দরিদ্র লোকদের তালিকাভুক্ত করা হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদে বসেই টিসিবির উপকারভোগীদের তালিকা  তৈরি করা হয়েছে। তালিকায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য, চেয়ারম্যান-মেম্বারদের আত্মীয়-স্বজন, সচ্ছল, প্রবাসীর স্ত্রী ও সরকারি অন্যান্য সুবিধাভোগী লোকজনকে উপকারভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তালিকা তৈরিতে বেশি অনিয়ম হয়েছে মগনামা, পেকুয়া সদর, রাজাখালী ও টইটং ইউনিয়নে। এছাড়াও বারবাকিয়া, উজানটিয়া ও শিলখালী ইউনিয়নেও তালিকা তৈরিতে অনিয়ম হয়েছে। ফলে প্রকৃত দরিদ্র জনগোষ্ঠী আসন্ন রমজান মাসে ন্যায্যমূল্যে সরকারি পণ্য ক্রয় থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তালিকায় অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুহসিন উদ্দিন আহমেদ জানান, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা যাচাই-বাছাই করে তালিকা তৈরি করেছেন। আর চেয়ারম্যানের সই করা তালিকাটি তিনি পেকুয়া ইউএনও অফিসে প্রেরণ করেছেন।

পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি বেলাল উদ্দিন মিয়াজি অভিযোগ করেন, পেকুয়া সদর ইউনিয়নে টিসিবি’র তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের অনুগত লোকজনকে টিসিবি’র উপকারভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ করেছেন। এর ফলে প্রকৃত দরিদ্র জনগোষ্ঠী বঞ্চিত হবে।  

পেকুয়ার বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা বদিউল আলম জিহাদি তার ইউনিয়নে তালিকা তৈরিতে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছেন।

গোপনে তালিকা তৈরির প্রসঙ্গে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অনিল কান্তি শীল জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই তালিকা তৈরি করেছে। আর সেই তালিকাটি তিনি পেকুয়া ইউএনও অফিসে প্রেরণ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. শরিফ জানান, টিসিবি’র তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এ ধরনের একটি অভিযোগ মগনমা ইউনিয়ন থেকে এসেছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সেটি মগনামার চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।  

এ প্রসঙ্গে পেকুয়ার ইউএনও পূর্বিতা চাকমা জানান, ইউপি চেয়ারম্যানরা স্ব স্ব ইউনিয়নের উপকারভোগীদের তালিকা তার কার্যালয়ে জমা দিয়েছে। অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত