অভাবে অন্যের সন্তানকে চুরি করে বিক্রির চেষ্টা!

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২২, ০৮:১০ পিএম

সাভারের ব্যস্ততম এলাকা থানা রোডের স্বপ্ন সুপারশপের সামনে থেকে চুরি হওয়া তিন বছরের শিশু জামেলাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পারভীন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভাবের সংসারে নিজের সন্তানদের অভাব মেটাতেই অন্যের সন্তান চুরি করে বিক্রি করতে চেয়েছিলেন অভিযুক্ত পারভীন। তার বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার পারভীন আক্তার টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী থানার কুচুটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাভারের কোর্টবাড়ি মহল্লার এমদাদের বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় আল-মুসলিম নামক তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।

জানা গেছে পারভীনের অটোরিকশাচালক স্বামী চার বছর আগেই তাদের ছেড়ে চলে গেছেন। পারভীনের চার বছর বয়সের মেয়ে ও আড়াই বছর বয়সের ছেলে রয়েছে। এ ছাড়া বৃদ্ধ বাবা-মার ব্যয়ভারও বহন করেন পারভীন।

অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া শিশু জামেলা রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা। নানা-নানি ও মায়ের সঙ্গে থানা রোড এলাকার সুপারশপ স্বপ্নের পেছনে মৃত আরব আলীর বাড়িতে ভাড়া থাকেন তারা।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সাভারের থানা রোড এলাকার সুপারশপ স্বপ্নের সামনে থেকে জামেলাকে চুরি করে নিয়ে যায় বোরকা পরা নারী পারভীন। সেখানে থাকা সিসিটিভির ফুটেজ দেখে শিশুটিকে উদ্ধারে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীরাও শিশুটির খোঁজ করতে থাকেন।

গণমাধ্যম কর্মী আব্দুস সালাম রুবেল বলেন, খবর পাই থানারোড থেকে চুরি হওয়া জামেলা নামাবাজারের জব্বর মসজিদ সংলগ্ন এলাকার দুলালের বাড়িতে রয়েছেন। সেখানে গিয়ে জানতে পারি বিকেলে পারভীন ওই শিশুটিকে নিয়ে গেছেন। পরে তাদের কাছ থেকে পারভীনের ফোন নম্বর নিয়ে তাকে ফোন করি এবং বলি, জামেলাকে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

তখন পারভীন তার অবস্থান সম্পর্কে জানালে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে সাভারের কলমা এলাকায় একটি দোকানের সামনে গিয়ে পারভীনসহ ওই শিশুকে দেখতে পাই। পরে সাভার মডেল থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে পারভীনকে গ্রেপ্তার করে শিশু জামেলাকে উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার শিশুটির মা শিলা বেগম জানান, গতকাল থেকে সাংবাদিক ও পুলিশের সহযোগিতায় আমার সন্তানকে ফিরে পেয়েছি। তাদের ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি পারভীনের কঠিন শাস্তির দাবি জানাই। কারণ পারভীনের মা বলেছেন, এর আগেও টাকার জন্য নিজের সন্তানকে বিক্রি করেছেন পারভীন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুল ইসলাম রাসেল বলেন, পারভীন মূলত শিশুটিকে চুরি করে বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, পারভীন ও তার পরিবার খুবই দরিদ্র। কোনো রকমভাবে জীবনযাপন করছেন। গ্রামে কোনো কিছুই নেই। অনেকটা ভাসমান।

নিজের সন্তানদের অভাব মেটাতে অন্যের সন্তান চুরি করে বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত