ফরিদপুরে আগুনে পুড়ল আলোচিত বরকত-রুবেলের ১২ বাস

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২২, ১০:৫৯ এএম

ফরিদপুরে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে গেছে আলোচিত দুই হাজার কোটি টাকার অর্থপাচার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই ভাই বরকত-রুবেলের মালিকানাধীন সাউথ লাইন পরিবহনের ১২টি বাস। এই পরিবহনগুলো আদালতের মাধ্যমে জব্দ করা হয়।

শনিবার সকালে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এসপি আলিমুজ্জামান জানান, শুক্রবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহরের গোয়ালচামটে নতুন বাস টার্মিনালের পাশে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘণ্টাখানেক চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি।

এসপি আরও বলেন, সেখানে ২২টি বাস রাখা ছিল। এর মধ্যে ১২টি বাসেই আগুন লাগে। দীর্ঘদিন বাস ফেলে রাখার ফলে দ্রুতই বাসগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ দাউ দাউ করে বাসগুলোতে আগুন জ্বলতে দেখে লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। সারিবদ্ধভাবে খোলা জায়গায় রেখে দেওয়া গাড়িগুলোতে রহস্যজনকভাবে একই সময়ে আগুন লাগে বলে তারা জানান।

ফরিদপুরের সাউথ লাইন নামে পুড়ে যাওয়া ওই বাসগুলো অর্থপাচার মামলায় গ্রেপ্তার শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের বহিষ্কৃত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের মালিকানাধীন।

২০২০ সালের ৭ জুন পুলিশের অভিযানে বরকত-রুবেলের গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে দুদক এসব বাস জব্দ করে। এরপর থেকে সেগুলো এখানেই রাখা ছিল।

এ বিষয়ে সাজ্জাদ হোসেন বরকতের স্ত্রী সুরাইয়া পারভীন বলেন, বরকতের মানি লন্ডারিং মামলায় গত বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আমাদের বাসসহ মোট ৫৫টি গাড়ি আদালতের নির্দেশে সিআইডি জব্দ করে। এর মধ্যে ১২টি বাস ফরিদপুরের গোয়ালচামট বিদুৎ অফিসের সামনে একটি শেডের নিচে রাখা ছিল।

তিনি আরও বলেন, গত ১৫ / ২০ দিন আগে ভূমিদস্যু মিজানুর রহমান চৌধুরী  আমাদের জব্দকৃত গাড়ি রাখার ২০ লক্ষ টাকার শেডটি দিনদুপুরে বিক্রি করে দেয়।

‘তারপর সেখান থেকে গাড়িগুলো দুরে অনিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখে। তারপর এই আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে আমাদের কয়েক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লাম। বিষয় নিয়ে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হবো।’

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক শিপলু আহমেদ জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। তবে, আগুন লাগার কারণ এখনো জানা যায়নি।

ফরিদপুরে সিআইডি ইন্সপেক্টর নাসির হোসেন জানান, ঘটনাটি অবশ্যই সিআইডি কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন। তবে মামলার তদন্ত আমরা (ফরিদপুর সিআইডি) করছি না সে কারণে আমরা এই বিষয়ে কথা বলতে পারছি না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত