গাইবান্ধার ৪২০টি বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ১৪টি বইয়ের মধ্যে মাত্র ১টি করে বই দেওয়া হয়েছে। হাতে বই না পাওয়ায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কম।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর নতুন করে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২১ জানুয়ারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। কয়েক দফায় এই ছুটি বাড়িয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শ্রেণিকক্ষে সশরীরে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে এক দিন তিন বিষয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে।
সূত্র আরও জানায়, জেলার সাতটি উপজেলার ৪২০টি বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম চলে। একেকজন শিক্ষার্থী চারুপাঠ, আনন্দ পাঠ (বাংলা দ্রুত পঠন), ইংলিশ ফর টুডে, ইংলিশ গ্রামার অ্যান্ড কমপোজিশন, গণিত, বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, বিজ্ঞান, চারু ও কারুকলা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, বাংলাদেশ ও বিশ^পরিচয়, নিজ নিজ ধর্মীয় বই, কৃষি শিক্ষা অথবা গার্হস্থ্যবিজ্ঞান, কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ের মোট ১৪টি বই সরকার বিনামূল্যে সরবরাহ করে। এই ১৪টি বইয়ের মধ্যে শুধু তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বই দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, যেসব বিষয়ের বই পাওয়া যায়নি শিক্ষকরা সেসব বিষয়ের পুরনো একটি বই থেকে শুধু রিডিং পড়ান। এতে করে তেমন কিছুই তারা বোঝে না। ফলে তারা বিদ্যালয়ে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। সব বিষয়ের বই দিলে তখন বিদ্যালয়ে যাবে। বই না পাওয়ায় তারা বাড়িতেও পড়তে বসে না। এতে করে পড়ার প্রতি অনীহা চলে আসছে। তাই তাড়াতাড়ি সব বিষয়ের বই দেওয়ার দাবি জানায় তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, বই না থাকার কারণে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী উপস্থিতি অনেকটাই কমে গেছে। তবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বুঝিয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন বলেন, বই সংকটের বিষয়টি ওপরমহলে জানানো হয়েছে। ২৫ মার্চের মধ্যে সব বিষয়ের বই চলে আসবে। তখন আর বইয়ের কোনো সংকট থাকবে না।
