কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকের পর রবিবার পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২২, ০৮:৪৬ পিএম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থী সাগর চন্দ্র দের ওপর নির্যাতনের বিচার চেয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখরের।

সোমবার বেলা ১২টায় উপাচার্যের কক্ষে বৈঠক হয়েছে।

তদন্ত করে আগামী রবিবারের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে উপাচার্যের থেকে এমন আশ্বাসে রবিবার পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া নির্যাতনের শিকার সাগর চন্দ্র দের চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করার দাবি প্রশাসন মেনে নিয়েছে বলে জানান বৈঠকে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠিন থেকে কঠিনতর হবে। অপরাধের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। কোনো বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। শিক্ষার্থীরা ভীত না হয় প্রশাসনকে জানালে প্রশাসন অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। আগামী রবিবারের মধ্যে শিক্ষার্থী সাগরকে নির্যাতনের যে অভিযোগ উঠেছে সেটির বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া হবে। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি।

তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, উপাচার্য স্যার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং তাদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত কমিটিতে অগ্নিবীণা হলের প্রভোস্ট কল্যাণাংশু নাহাকে আহ্বায়ক, প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধানকে সদস্য সচিব এবং ছাত্র পরামর্শক ড. তপন কুমার সরকারকে সদস্য করা হয়েছে।

সোমবার সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ছিল। তবে মঙ্গলবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা স্বাভাবিক ভাবে চলবে বলেও জানায় আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা।

শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়টির অগ্নিবীণা হলের ২০৪ নং কক্ষে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে বলে জানান আহত শিক্ষার্থী। এদিকে, সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান বিভাগের এক শিক্ষার্থী সাইফ।

নির্যাতনের শিকার সাগর চন্দ্র দে জানান, তাকে রোলিং চেয়ারে জোর করে বসিয়ে ৫০-৬০ বার জোরে ঘোরানো হয়। বারবার নিষেধ করার পরেও তাকে বসিয়ে চেয়ারটি ঘোরাতে থাকে চারুকলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৌমিক জাহান। ঘোরাতে ঘোরাতে একপর্যায়ে চেয়ারসহ তাকে ফেলে দেয়া হয়।

চেয়ার থেকে পড়ে গিয়ে দুটি দাঁত ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি রক্তক্ষরণ হলেও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাননি অভিযুক্ত শিক্ষার্থী। এমনকি কাউকে যেন ফোন না করতে পারেন, সে জন্যে ফোনসেটও ছিনিয়েও নেয়া হয় নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত