চলতি বছর পদ্মা-যুমনা নদীর পানি কমেছে অস্বাভাবিক হারে। গত কয়েক মাস ধরেই যার প্রভাব পড়েছে ওই দুই নদীতে নৌযান চলাচলে। ডুবোচরে নৌযান আটকে ব্যাহত হচ্ছে যমুনা-পদ্মা নদীসহ অভ্যন্তরীণ রুটে নৌযান চলাচল।
পাশাপাশি ঘাটগুলোতে যানবাহন পারাপারে বিলম্ব হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে সড়কপথেও। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌরুট পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ার উভয় পাড়ে লেগে থাকছে তীব্র যানজট। প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ওই পথে চলাচল করা হাজার হাজার গাড়ির চালক ও যাত্রীরা।
গতকাল বিষয়টি নিয়ে কথা হয় দুই পাড়ে আটকে থাকা গাড়ির চালক-যাত্রী ও ঘাট কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে। চালক-যাত্রীদের অভিযোগ, পানি কমায় নিচে নেমে যাওয়া পন্টুনের সঙ্গে সড়কের উচ্চতা কমানোরও কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি কর্র্তৃপক্ষ। তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পানি খুব দ্রুত কমার কারণে সমন্বয় করা যাচ্ছে না। ফলে পর্যাপ্ত ফেরি থাকার পরও তারা কিছু করতে পারছেন না।
গতকাল পাটুরিয়া ঘাটে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। সকাল থেকেই পাটুরিয়া প্রান্তে পারাপারে অপেক্ষায় ছিল শত শত যানবাহন। বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মহিউদ্দিন রাসেল বলেন, গেল কয়েক দিনে যমুনা নদীর পানি অতিরিক্ত কমে গেছে। ফলে পন্টুন নিচু হয়ে গেছে। আগে একটি ফেরি থেকে যানবাহন আনলোড করতে সময় লাগত ১৫ মিনিট। সেখানে এখন ৩০-৪৫ মিনিট সময় লাগছে। ফলে ঘাট এলাকায় পাল্লা দিয়ে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। ২০টি ফেরি দিয়ে পারাপার করে কমানো যাচ্ছে না।
মানিকগঞ্জের ট্রাফিক পুলিশের পাটুরিয়া ঘাটের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিকেলেও পাটুরিয়া ঘাট এলাকা, দুই টার্মিনাল, মহাসড়ক ও উথুলি সংযোগ মোড় মিলে পাঁচ শতাধিক যানাবহন ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় ছিল।
ট্রাকচালক শাহাবুদ্দীন জানান, ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পারাপারের অপেক্ষায় আছি। কখন পার হতে পারব জানি না।
একই অবস্থা দৌলতদিয়া ঘাটেও। সেখানে প্রায় ৫ কিলোমিটারের যানজট লেগে থাকছে কয়েক দিন ধরে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট অফিসের তথ্যমতে, নৌরুটে ২০ ফেরির মধ্যে ১৯টি নিয়মিতভাবে যানবাহন পারাপারে কাজ করছে। তবে পানি কমে পন্টুনের সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ সড়কের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ফেরিতে লোড-আনলোডের অতিরিক্ত সময় লাগছে। যার প্রভাবে অপেক্ষায় থাকা গাড়ির সারি দীর্ঘ হচ্ছে।
ওই ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় থাকা ট্রাকচালক মিজান জানান, শনিবার রাতে রেলগেট এলাকায় ট্রাকের সিরিয়ালে আটকে পড়ি। তারপর একটু থেকে-একটু এগিয়ে ৪০ ঘণ্টার বেশি সময় পরে ঘাটের কাছে এসেছি, ঘাট পার হতে এখন আর কতক্ষণ লাগবে বুঝতেছি না।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভোগান্তি ও যানজট কমাতে আমরা কাজ করছি। সংযোগ সড়ক ও পন্টুনের ইঞ্জিনিয়ার শাখাকে জানিয়েছি। তারা এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
খোরশেদ আলম বলেন, ঘাটে এখন ১৯টি ফেরি চলাচল করলেও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।
