দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপসহকারী পরিচালকের পদ থেকে মো. শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুতির ঘটনার তদন্ত করতে স্বাধীন কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছে উচ্চ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজের (নট প্রেসড রিজেক্ট) এ আদেশ দেয়। শরীফের চাকরিচ্যুতি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালতের ১০ আইনজীবীর পক্ষে এ রিট আবেদনটি করা হয়।
গত ১০ মার্চ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদেশের জন্য ১৫ মার্চ (গতকাল) দিন ধার্য করে আদালত। আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। দুদকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।
অ্যাডভোকেট শিশির মনির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুদক যার (শরীফ উদ্দিন) বিষয়ে আদেশ দিয়েছে তিনি নিজেই হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন। তাই আমরা আইনজীবী হিসেবে জনস্বার্থে এ মামলা চালানোর প্রয়োজন দেখিনি। নট প্রেসড চাইলে আদালত আবেদনটি খারিজের এ আদেশ দেন।’ অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শরীফ উদ্দিন নিজে একটি রিট আবেদন করেছেন উল্লেখ করে তারা আবেদনটির বিষয়ে নট প্রেসড চান। আমরা বলেছি, এ নিয়ে কয়েক দিন শুনানি করেছি। এখন কেন তারা এটি চাইছেন। আদালত তখন আবেদনটি খারিজ করে দেন।’
এদিকে দুদকে চাকরি ফিরে পেতে শরীফ উদ্দিনের করা রিট আবেদনের শুনানি মুলতবি করেছে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ। গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে আবেদনটির ওপর শুনানি শুরু হলে আবেদনকারীর আইনজীবী সালাউদ্দিন দোলন আদালতকে বলেন, শরীফকে চাকরিচ্যুতি সংক্রান্ত দুদকের ওই আদেশ রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে সংস্থাটিতে আবেদন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫ দিন পার হলেও কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। এজন্য আইনজীবী শুনানি মুলতবি চাইলে আদালত আগামী ১০ এপ্রিল ধার্য করে।
গত ১৩ মার্চ শরীফ উদ্দিনের পক্ষে এ আবেদনটি করেন আইনজীবী মিয়া মোহাম্মদ ইশতিয়াক। এতে দুদক সার্ভিস রুলস ২০০৮ এ ৫৪ (২) এবং এই ধারাবলে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি শরীফ উদ্দিনের অপসারণের আদেশ চ্যালেঞ্জ করা হয়। চাকরিবিধি না মানার কারণে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করে দুদক। এ নিয়ে গণমাধ্যমে দুদক ও শরীফের পক্ষে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আসে।
