সুন্দরবন ভ্রমণে গিয়ে ডোরাকাটা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা মেলাটা পর্যটকদের ভাগ্যের বিষয়। বাঘ দেখার আশায় প্রতিবছর দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক এলেও খুব কম মানুষেরই জাতীয় পশুর দেখার সৌভাগ্য হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই চলতি বছরের শুরু থেকেই বাঘের বিচরণ চোখে পড়ছে পর্যটকদের। দিনের বেলায় একসঙ্গে কয়েকটি বাঘকে নদী পার হওয়া ও নদীর পাড়ে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে একাধিকবার। সম্প্রতি তেমন ছবি ও খবর সাড়া জাগিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে আমাগী নভেম্বর মাসে নতুন করে বাঘ শুমারির উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ।
সুন্দরবনের করমজল পর্যটনকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, গত ১৮ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালা নদীর একপাড় থেকে সাঁতরিয়ে অন্যপাড়ে তিনটি বাঘের নদী পার হওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে দর্শনার্থী ও বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। আর সর্বশেষ গত ১২ মার্চ একই রেঞ্জের ছিটা কটকা এলাকার খালের পাড়ে এক জায়গায় চারটি বাঘের দেখা মেলে।
এ ছাড়া পূর্ব সুন্দরবনের করমজল, হাড়বাড়ীয়া,আন্ধারমানিক, চরাপুটিয়া ও কটকা ক্যাম্প এবং পর্যটন স্পটগুলোতেও প্রায়ই বাঘের দেখা মিলেছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে গত ৯, ১০ ও ১২ ফেব্রুয়ারি করমজলে দেখা মিলেছে গেছে জোড়া বাঘের। তিনি বলেন, এ ছাড়া বিভিন্ন ক্যাম্প এলাকায় বাঘের আনাগোনা, পায়ের ছাপ দেখে মনে হচ্ছে বনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে।
আজাদ কবির বলেন, সর্বশেষ ২০১৮ সালে বাঘ গণনা হয়েছে। ক্যামেরা ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে এ গণনায় তখন বনে ১১৪টি বাঘের অস্তিত্ব মিলেছিল। তার আগে গত ২০১৫ সালে একই পদ্ধতিতে গণনায় সেবার বাঘের সংখ্যা হয়েছিল ১০৬। যদিও গণনার পদ্ধতির কারণে ২০০৪ সালের গণনায় বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪১টি। তবে সে সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ছিল।
এই কর্মকর্তা বলেন, তবে চলতি বছরের নভেম্বরে আবারও শুরু হতে পারে বাঘ গণনার কাজ। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত ফান্ডের অনুমোদন হলেই নভেম্বরে শুরু করা যাবে নতুন করে বাঘ গণনার কাজ।
