সাভারের আশুলিয়ায় মো. রনি (২০) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে, অভিযুক্তকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
অভিযুক্ত রনি আশুলিয়ার নিরিবিলি স্বপ্নবিলাস এলাকার বাসিন্দা এবং ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বড় ভাইয়ের ছোট বেলার বন্ধু।
স্থানীয়রা জানায়, অভিযুক্ত রনির মা বিদেশে থাকেন। বাবা দিলা মিয়া অন্যত্র বিয়ে করে সংসার করেন। মা বিদেশে এবং বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করায় খাবারের সংকট মেটাতে রনি তার মায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা গার্মেন্টস কর্মীর কাছে তিন হাজার টাকা মাস চুক্তিতে তিন বেলা খাবার খেতেন। প্রথম দিকে টিফিন বক্সে খাবার দিলেও পরে ভুক্তভোগীর বাসায় এসে খাবার খেতেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় বছর খানিক আগে পোশাক পরিবর্তনের সময় রনি ওই ছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরে ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে অভিযুক্ত ওই ছাত্রীর কাছে বিকাশে কৌশলে টাকাও হাতিয়ে নেন।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী জানান, তার বান্ধবীদের আপত্তিকর ভিডিও পাঠিয়ে টাকা নিতে আরো চাপ প্রয়োগ করা হয়। টাকা পাঠানোর ছলে বিকাশের দোকান থেকে রনিকে আটক করলেও স্থানীয় ‘মাতাব্বররা’ মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি আপস করেন। এ সময় মাতব্বরেরা জোরপূর্বক ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে সাদা স্টাম্পে স্বাক্ষর নেন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় স্থানীয় মাতব্বর আশুলিয়ার এনায়েতপুর এলাকার সাদ্দাম মিয়া, ফাল্গুনী এলাকার কালাম ওরফে তোতলা কালাম, ফাল্গুনী একটেল টাওয়ার এলাকার জসিম ভুক্তভোগীর খালুকে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’
এ ছাড়া অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।
