একসঙ্গে বেড়ে ওঠা ও মৃত্যু, পাশাপাশি সমাহিত ২ বন্ধু

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২২, ০৩:০০ পিএম

রূপম ও নিশাত যেন একই বাগানে ফোটা দুটি ফুল। ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে গ্রামের সবার কাছে পরিচিত তারা। স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা আড্ডা ছিল তাদের একসঙ্গে। দিনের বেশির ভাগ সময় কাটত তাদের একসঙ্গে। একজন অন্যজনকে ছাড়া বেশি সময় থাকতো না। মৃত্যুও তাদের একসঙ্গেই বরণ করলো।

রবিবার বিকেলে বেপরোয়া ট্রাকের চাপায় নিহত হন এই দুই বন্ধু।

নিহত রূপম উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের সাফর্তা গ্রামের রমিনুর রহমান খানের একমাত্র সন্তান এবং নিশাত একই গ্রামের শাহ্ আলম খানের দ্বিতীয় ছেলে।

রূপম মির্জাপুর সরকারি কলেজের এবং নিশাত কহেলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তারা দুজনেই উয়ার্শী ইউনিয়নের দেউলী গ্রামের সিয়াম একাডেমী থেকে গত বছর এসএসসি পাস করেছেন।

তাদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কলেজে যাতায়াতের জন্য রুপমকে তার বাবা রমিনুর রহমান খান ৩/৪ মাস আগে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেন। কলেজ সময় বাদে দুই বন্ধু প্রায়ই মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে যেত। রবিবার বিকেলটাও ছিল তেমনি এক ঘুরতে যাওয়ার সময়।

সাফর্তা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আম্বার আলী খান জানান, রবিবার বিকেলে রূপম তার বন্ধু নিশাতকে নিয়ে মোটসাইকেলযোগে মির্জাপুর-বালিয়া আঞ্চলিক সড়ক হয়ে মির্জাপুর সদরে আসছিলেন।

পথিমধ্যে ভাওড়া নয়াপাড়া নামক স্থানে পৌঁছার পর একটি বেপরোয়া ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে রূপম খান নিহত হন।

মোটরসাইকেলে থাকা তার বন্ধু নিশাতকে গুরুতর আহত অবস্থায় কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত আটটার দিকে নিশাতেরও মৃত্যু হয়।

তাদের এই মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।

তিনি বলেন, নিজ হাতে সাজানো কোনো বাগান থেকে দুটি তাজা ফুল কেউ ছিঁড়লে বাগানের মালিক যে কষ্ট পায় গ্রামবাসীর মনে তেমনই আঘাত লেগেছে।

সোমবার বেলা সাড়ে এগারোটায় সাফর্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রূপম ও নিশাতের জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। পরে একই সময় গ্রামীণ কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে তাদের দাফন করা হয়। এ সময় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলম চাঁদ বলেন, মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ট্রাক ও চালককে আটক করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত