‘গরিবের টাকা-পয়সা নাই, ৬ বছরেও বিচার পাইলাম না’

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২২, ০৪:৫৪ পিএম

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পূর্ণ হলো।

গতকাল রবিবার সোহাগী জাহানের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের দুটি এতিমখানা মাদ্রাসার ছাত্রদের খাবার পরিবেশন করা হয়।

পরে স্বজনদের নিয়ে তনুর কবর জিয়ারত করেন তনুর বাবা। এখনো আসামি শনাক্ত না হওয়ায় বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছেন তারা।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘সিআইডির মতো পিবিআইও জিজ্ঞাসাবাদে পুরোনো বিষয়ে ঘুরেফিরে একই প্রশ্ন করে। কখন তনু ঘর থেকে বের হলো। কোথায় কোথায় পড়াতে যেত। কার বাসায় যেত। এখনো ওরা পাঁচ বছর আগের অবস্থানে আছে। আর কত জবানবন্দি দিতাম আমরা। বিচার নিয়া কী কইতাম? ওপরওয়ালা বিচার করবে।’

মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ‘গত বছরের নভেম্বরে পিবিআই আমাকে দুবার জিজ্ঞাসাবাদ করে। আমি প্রশ্নের জবাব দিই। এর বাইরে আর কী বলার আছে? গরিব মানুষের টাকা নাই, পয়সা নাই। এই মামলার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। পাঁচ বছর পেরিয়ে ছয় বছর হয়ে গেল, কই বিচার তো পাইলাম না।’

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে কালভার্টের ২০ থেকে ৩০ গজ পশ্চিমে ঝোপ থেকে কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২১ মার্চ বিকেলে তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০১৬ সালের ২১ মার্চ সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার প্রথম তদন্তের দায়িত্ব পান কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম। চার দিন পরে ২৫ মার্চ মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মনজুর আলমকে। পরে ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কুমিল্লার পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম তদন্ত করেন। চতুর্থ দফায় ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা বদল করে সিআইডির নোয়াখালী ও ফেনী অঞ্চলের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার (বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) জালাল উদ্দিন আহম্মদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

চার বছর পর গত বছরের ২১ অক্টোবর হত্যা মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার সদর দপ্তরে স্থানান্তর করা হয়। এরপর পিবিআই ৩ বার কুমিল্লা সেনানিবাসে এসে মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম ও তাদের ছোট ছেলে আনোয়ার হোসেন ওরফে রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

পিবিআই প্রধান পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানান, সিআইডির কাছ থেকে মামলার পুরো ডকেটটি নিয়ে তারা খতিয়ে দেখছেন। তারা ঘটনাটি অনুসন্ধানের এমন কোনো বিষয় আছে কিনা, যা সিআইডি অ্যাড্রেস করেনি, তা যাচাই করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত