বিমার টাকা পেতে ও ব্যাংকঋণ এড়াতে বরকত-রুবেলের ১২ বাসে আগুন: পুলিশ

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২২, ০৯:৫৮ পিএম

ইনস্যুরেন্সের (বিমা) টাকা দাবি করতে ও ব্যাংকঋণের দায় থেকে মুক্তি পেতে অর্থ পাচার মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই বরকত-রুবেলের ১২টি বাসে আগুন দেয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় বরকত–রুবেলের ঘনিষ্ঠ তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- ফরিদপুর শহরের পশ্চিম গোয়ালচামট মহল্লার বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম ওরফে জনি (২৪) ও পারভেজ মৃধা (২১) এবং পাশের নদরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রামের মোহাম্মদ আলী (৪১)।

সোমবার বিকেলে ফরিদপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জামাল পাশা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের মালিকানাধীন বাস পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন জহুরুল ও মোহাম্মদ আলী বিকেলে ফরিদপুরের ১ নম্বর আমলি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলামের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জহুরুল ইসলাম ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় রাখা বরকত ও রুবেলের মালিকানাধীন ২২টি বাস দেখাশোনা করতেন। মোহাম্মদ আলী ওই বাসগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নৈশপ্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এ ছাড়া পারভেজ মৃধাকে এ মামলার সন্দেহজনক আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মহল্লার হেলিপোর্ট এলাকা থেকে ওই তিনজনকে একসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জহুরুল হক ও মোহাম্মদ আলী বাসে আগুন দেওয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্তে ও আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মানি লন্ডারিং মামলায় জব্দ করা বাসগুলোর ইনস্যুরেন্সের ক্ষতিপূরণ ও ব্যাংকঋণের দায় থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য আগুন দেওয়া হয়।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও তদন্ত) ইমদাদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. হেলালউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ১২ মার্চ সকালে বাসগুলোতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। ওই দিনই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল গফফার বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নাশকতার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করেন।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ হোসেন বলেন, জহুরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলীর জবানবন্দিতে অপর আসামি পারভেজের নাম এসেছে। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালতের নির্দেশে তাদের জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, ওই বাসগুলো ছাড়া এই অর্থ পাচার মামলার আলামত হিসেবে ফরিদপুরের বাইপাস ও চরাঞ্চলে বেশ কিছু আলামত সংরক্ষিত ছিল। গত দেড় মাসের মধ্যে ওই আলামতগুলো চুরি হতে শুরু করে। এসব চুরির ঘটনায় এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি মামলা হয়েছে। ওই মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্তত ১৫ জনকে।

তিনি বলেন, আলামত চুরির ঘটনায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। তারা চুরি করা আলমত যাদের কাছে বিক্রি করেছেন, তারা সবাই বরকত-রুবেলের পুরোনো সহযোগী।

এদিকে বরকতের স্ত্রী সুরাইয়া পারভীনের দাবি, যে ১২টি বাস পোড়ানো হয়েছে, তার মধ্যে ১টি বাসের ক্ষেত্রে ২০ লাখ টাকা ঋণ ছিল। আর কোনো ঋণ ছিল না। বাসগুলোর ইনস্যুরেন্স করা কি না, তা তার জানা নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত