বাবরের মানি লন্ডারিং মামলার চার্জ গঠনের শুনানি ১৭ এপ্রিল

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২২, ০৮:৩১ পিএম

ফরিদপুরের সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর ছোট ভাই মোহতেশাম হোসেন বাবরের বিরুদ্ধে হওয়া বহুল আলোচিত দুই হাজার কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলার শুনানি ঢাকা মহানগরের বিশেষ জজ আদালত-১০ এ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার শুনানির সময় হাজির ছিলেন মোহতেশাম হোসেন বাবরসহ আটজন। এ মামলার ১০ আসামির মধ্যে এখনো দুজন পালাতক রয়েছেন।

ওই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, আদালতের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম মামলাটির চার্জ গঠনের শুনানি আগামী ১৭ এপ্রিল নির্ধারণ করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার আদালত আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষে বক্তব্য শুনেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৬ জুন বাবরসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে সিআইডি বাদী হয়ে রাজধানী ঢাকার কাফরুল থানায় মানি লন্ডারিংয়ের মামলা দায়ের করে।

মামলার তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত বছরের তিন মার্চ বাবরসহ দশ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস।

ওই মামলায় পলাতক বাবরের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে গত সাত মার্চ রাতে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ মামলায় দশ জন আসামির মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তাররা হলেন- শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ছোট ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেল, এলজিআরডি মন্ত্রীর সাবেক এপিএস এএইচএম ফোয়াদ, শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার নাজমুল ইসলাম লেভী, যুবলীগ নেতা আসিবুর রহমান ফারহান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ফাহিম, যুবলীগ নেতা কামরুল হাসান ডেভিড। পলাতক রয়েছেন মোহাম্মদ আলী মিনার ও তারিকুল ইসলাম নাসিম।

শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার নাজমুল ইসলাম লেভী, যুবলীগ নেতা আসিবুর রহমান ফারহান বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

সূত্র জানিয়েছে, এই মামলায় আদালতে হাজির হওয়া আট আসামির সকলেই এক সময় ছিলেন ফরিদপুরের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। তাদের ইশারাতেই নিয়ন্ত্রিত হতো ফরিদপুরের প্রশাসন ও সকল সরকারি দপ্তর। কারো কারো ছিল নিজস্ব বাহিনী। তবে এদের মধ্যে পূর্বে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কই ছিল না মোহতেশাম হোসেন বাবর, সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের। ‘হাইব্রীড’ এই তিন নেতা সাবেক মন্ত্রীর ক্ষমতা ব্যবহার করে আওয়ামী রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নেয়। তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করত দলের অঙ্গ সংগঠনে কে কোন পদ পাবেন।

এর আগে ২০১০ সালের মাঝামাঝি ফরিদপুরের আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ নেন বাবর। মন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবেও ফরিদপুর সদরে বিভিন্ন অফিস আদালতে প্রভাব বিস্তার করেন তিনি। তার প্রধান সহযোগী ছিলেন ততকালীন মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের এপিএস সত্যজিৎ মুখার্জি ও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মোকাররম মিয়া বাবু।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মাসুদ হোসেন মনে করেন, সত্যজিত ও মোকাররমের হাত ধরেই ফরিদপুরে টেন্ডারবাজি এবং চাকরিতে উৎকোচ বাণিজ্যের শুরু।

তিনি বলেন, ‘মূলত ২০০৯ সালে মন্ত্রীর এপিএস হওয়ার পর সত্যজিৎ, মোকাররম মিয়ারা অপকর্মের যে বলয় তৈরি করেছিল সেটি দুবছর আগেও অটুট ছিল। সত্যজিত ও মোকাররম মিয়ার কপাল পুড়লেও তাদের সাজানো বাগানে নতুন মালি হিসেবে এসেছে বরকত ও রুবেল।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, সাবেক প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর এপিএস হওয়ার পর রাতারাতি ভাগ্য বদলের নেশায় মত্ত হয়ে ওঠেন সত্যজিৎ মুখার্জি। অল্প সময়ে সত্যজিৎ হয়ে ওঠেন বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক। অন্যদিকে বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা মোকাররম মিয়া বাবুও প্রতিষ্ঠা করেন ক্ষমতার ত্রাস। সত্যজিতের সঙ্গে মিলে ফরিদপুরের সরকারি দপ্তরগুলোর দরপত্রে প্রতিষ্ঠা করেন একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ। চাকরিতে ঘুষের রমরমা বাণিজ্যের অভিযোগ এখনো মানুষের মুখে মুখে।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে সত্যজিৎ (২০১৬ সালের ২৯ জুন) ও মোকাররম (২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল) ধরা পড়েন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে দুজনের বিরুদ্ধেই মামলা করে দুদক। এর মধ্যে দুদকের মামলায় সত্যজিৎ মুখার্জির হয়েছে সাত বছরের কারাদণ্ড। মোকাররম বাবুর বিরুদ্ধে করা মামলার চলছে বিচারকাজ।

সত্যজিৎ ও মোকাররম বাবুকে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, চাকরি দেওয়ার নাম করে উৎকোচ গ্রহণের বিভিন্ন অভিযোগ মামলা হয়। যার বিচারকাজ এখনো চলছে। বর্তমানে তারা দুজনেই জামিনে রয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত