রাজধানীর শাহজাহানপুর আমতলা রেলগেটে দুর্বৃত্তের এলোপাতাড়ি গুলিতে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু (৫৫) ও সামিয়া আফনান প্রীতি (২০) নামে এক কলেজ ছাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন টিপুর গাড়ি চালক মনির হোসেন মুন্না (৩০)।
বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গুলির ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ মনির হোসেন মুন্না হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, তার গাড়ির মালিক জাহিদুল ইসলাম টিপুর বাসা শাহজাহানপুর বাগিচা এলাকায়। মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সেক্রেটারি তিনি।
মুন্না জানান, মতিঝিল এজিবি কলোনি থেকে গাড়িযোগে বাগিচার বাসায় যাচ্ছিলেন টিপু। পথে শাজাহানপুর আমতলা মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ দুর্বৃত্তরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে। গাড়ির ভেতর থাকা তারা দুজনই গুলিবিদ্ধ হন।
নিহত প্রীতির বান্ধবী সুমাইয়া জানান, প্রীতির বাসা শান্তিবাগ মগা হাজীর গলিতে। সুমাইয়ার বাসা তিলপাড়া। রাতে তারা দুজন ঘুরতে বের হয়েছিলেন। সুমাইয়া তাকে রেলগেট থেকে রিসিভ করে তিলপাড়ায় তার বাসায় নিয়ে যাচ্ছিল। রিকশা করে যাওয়ার সময় তারা হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পান। কে বা কারা গুলি করেছে তা বলতে পারেননি সে। প্রীতি বদরুন্নেসা কলেজের অনার্সের ছাত্রী।
পরে স্থানীয়রা তাদের ৩ জনকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জাহিদুল ও প্রীতিকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদেহ দুটি মর্গে রাখা হয়েছে। আহত মুন্নাকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল খান দুজনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করেছেন।
নিহত টিপু মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের গভর্নিং বডির ৫ বারের সদস্য ছিলেন। তার স্ত্রী ফারহানা ইসলাম ডলি ১-১১-১২ নম্বর ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর। ১ ছেলে ও ২ মেয়ের জনক টিপু।
পুলিশের মতিঝিল জোনের উপকমিশনার (ডিসি) আব্দুল আহাদ হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু মাইক্রোবাসে তার বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। খিলগাঁও রেলক্রসিংয়ের ৫০ গজ আগে উত্তর শাহজানপুরে পৌঁছামাত্র রাস্তার অপর প্রান্ত থেকে মোটরসাইকেলে আসা এক যুবক রাস্তার পার হয়ে গাড়ির সামনে এসে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়। ওই যুবক হেলমেট পরিহিত ছিল। মাইক্রোবাসের সামনের সিটে বসা ছিলেন টিপু। এ সময় পাশে রিকশা আরোহী বদরুন্নেসা কলেজের ছাত্রী প্রীতিও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
তিনি আরো বলেন, কী কারণে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখন বলা সম্ভব না। তবে এতটুকু বলতে পারি, ঘাতক হেলমেট পরিহিত ছিল। ইতিমধ্যে সিসিটিভির ফুটেজ আমরা সংগ্রহ করতে পেরেছি।
