সন্তানের জন্য দুধ কিনে রাখতে মাকে বলেছিলেন ডা. বুলবুল

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২২, ০৭:০০ পিএম

রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় ‘ছিনতাইকারীর’ ছুরিকাঘাতে নিহত হন দন্ত চিকিৎসক আহমেদ বুলবুল। তার মৃত্যুতে রংপুরের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

 বুলবুলের মা বুলবুলি বেগম শোকার্ত হয়ে পড়েছেন। সন্তানের সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতি আওড়াচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘গতকাল রাতে বিকাশে দুই হাজার টাকা পাঠিয়ে দুধ কিনে রাখতে বলেছিল। দুই একদিনের মধ্যেই বাড়িতে আসবে বলেছিল বুলবুল। বাড়িতে এসে সেই দুধ নিয়ে যাবে বাচ্চাদের জন্য। কিন্তু তা আর হলো না।’

ছেলের খুনি যেই হোক তাকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন এই মা।

ডা. বুলবুলের বাড়ি রংপুর নগরীর ভগিবালাপাড়ায়। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। চাকরি করাকালীন ১৯৯৯ সালে মারা যান। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন বুলবুল।

১৯৯৭ সালে রংপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকার মগবাজারে একটি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্র্যাকটিস শুরু করেন। দিনাজপুরে বিয়ে করে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঢাকার শেওড়াপাড়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। দেড় বছর বয়সী ছেলে ও ৮ বছরের মেয়ে রয়েছে বুলবুলের।

কী কারণে বা কেন এ হত্যাকাণ্ডের শিকার বুলবুল তা বুঝে উঠতে পারছেন না স্বজনরা।

বুলবুলের ছোট ভাই বকুল বলেন, সকালবেলা ফোনে খবর পাই ভাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। ভাইয়ের সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ ছিল না। কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে তা বুঝে উঠতে পারছি না।

যারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বকুল।

ছোট বোন লাভলী সামাদ বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন বড় ভাই বুলবুল।

চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি ঠিকাদারি করতেন। ঠিকাদারি কাজে আজ নোয়াখালী যাওয়ার কথা ছিল। এখন ভাই নেই। দুই শিশু সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা কীভাবে দিন পার করবেন।

স্বজনসহ প্রতিবেশীরা এই হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানান।

এর আগে মিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান জানান, এ ঘটনাকে ছিনতাইকারীর কাজ বলে সন্দেহ করছেন তারা। হত্যার পেছনে পূর্ব শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

তবে হত্যাকারীরা নিহতের কাছ থেকে টাকা নিতে পারেনি বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত