প্রতিষ্ঠানের অর্ধকোটি টাকা শিক্ষকের পেটে!

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২২, ০৭:২৫ এএম

বাগেরহাটের রামপাল সরকারি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও বর্তমান সহকারী অধ্যাপক সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধকোটি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কলেজটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেবেকা সুলতানা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কাছে এ-সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের মাধ্যমে চারজন জ্যেষ্ঠ সহকারী অধ্যাপককে ডিঙিয়ে সাইদুর রহমান বনে যান ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তিনি ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে নানা অভিযোগের মুখে জ্যেষ্ঠ সহকারী অধ্যাপক দ্বীনবন্ধু পালের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে বাধ্য হন।

সাইদুর রহমানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠলে পরবর্তী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দ্বীনবন্ধু পাল তা নিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও রামপালের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার কুমার পালের নির্দেশে একটি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করেন। কলেজের সহকারী অধ্যাপক শেখ ইস্রাফিল হোসেনকে আহ্বায়ক করে প্রভাষক সঞ্জয় কুমার পাল, নিরুপম কুমার পাল, জীবনদ্যুতি চক্রবর্ত্তীসহ চার সদস্যের একটি কমিটি দীর্ঘ সময় ধরে অভ্যন্তরীণ অডিট সম্পন্ন করেন। ওই নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, সাইদুর রহমান বেশ কয়েকটি খাত থেকে ৪৪ লাখ ৮৮ হাজার ৮৯৪ টাকা আত্মসাৎ করেন। ১ থেকে ২২ নম্বর রসিদ বইয়ের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হয় ৫১ লাখ ২ হাজার ৮৮২ টাকা। টাকা গ্রহণ করা হয়েছে কিন্তু রসিদ পাওয়া যায়নি যথাক্রমে ক-অংশ এইচএসসি সাধারণ শাখা ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭১৫ টাকা, খ-অংশ এইচএসসি (বিএম) শাখা ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৯০০ টাকা ও গ-অংশ স্নাতক পাস শাখার ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৪৩ টাকা। তার সময়কালের মধ্যে কলেজের আয় হয়েছে মোট ৬৭ লাখ ৫৩ হাজার ৪০ টাকা। ব্যয়ের পরিমাণ মোট ২২ লাখ ৬৪ হাজার ১৪৬ টাকা। তিনি ৪৪ লাখ ৮৮ হাজার ৮৯৪ টাকার কোনো হিসাব দিতে পারেননি, যা নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ওই প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা প্রতিবেদনের বাইরেও তিনি ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েক দফায় টিউশন ফির প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও অন্যান্য ফি বাবদ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার কোনো হদিস মিলছে না। এ ছাড়া হিসাববহির্ভূতভাবে ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

রামপাল সরকারি কলেজের একাধিক শিক্ষক দেশ রূপান্তরকে বলেন, কলেজটি একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বেশ সুনামের সঙ্গে অন্য অধ্যক্ষরা দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু সাইদুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করেছেন। তারা যথাযথ তদন্ত করে সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কলেজে গিয়ে সাইদুর রহমানকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি ধরেননি।

কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেবেকা সুলতানা সাইদুর রহমানের আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের কলেজে সরকারিভাবে নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। তার (সাইদুর) দায়িত্ব পালনের সময়ে যে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে তার দায় কলেজ কর্র্তৃপক্ষ নেবে না। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দিয়েছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামপালের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কবীর হোসেন বলেন, ‘একটি অভিযোগ পেয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিসও করা হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত