মালদ্বীপের কাছে হারের ক্ষতে প্রলেপ দিতে আজ সিলেটে মঙ্গোলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। সিলেট জেলা স্টেডিয়াম প্রস্তুত চার বছর পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনে। তবে নয়া কোচের অধীনে একেবারে অচেনা এক প্রতিপক্ষকে হারাতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ? এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানা যাবে আজ ম্যাচ শেষে। তবে সিলেটবাসীকে আরেকবার জয়ের আনন্দে ভাসানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
গেল নভেম্বরে মালদ্বীপকে হারিয়ে দীর্ঘ ১৮ বছরের জয়ের বন্ধ্যত্ব ঘুচিয়েছিল বাংলাদেশ। ২৪ মার্চ মালেতে আবার তাদের কাছে হারতে হয় ২-০ ব্যবধানে। হারটা ছিল বড্ড হতাশার। বিশেষ করে স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার জন্য। তার ৪-৪-২ সনাতনী কৌশল কাজে আসেনি। মঙ্গোলিয়াকে ঠেকানো নয় বরং হারানোর ছক কষতে হচ্ছে কাবরেরাকে। নিজের ছকে ও একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। কোচের পরিকল্পনা মাঠে ঠিকঠাক কাজ করানোর দায়িত্বটা ফুটবলারদের।
বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ১৮৬-তে থাকা বাংলাদেশের চেয়ে দুই ধাপ এগিয়ে মঙ্গোলিয়া। তবে একেবারে বিপরীত কন্ডিশনে খুব বেশি প্রস্তুতি ছাড়া খেলতে নেমে মঙ্গোলিয়া কতটা সুবিধা করতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন। হোম কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে মালদ্বীপের কাছে হারের ক্ষতে প্রলেপ লেপতে চায় বাংলাদেশ। আর শুরুতেই অনুশীলনের ঘাটতির কথা বলে মঙ্গোলিয়া নামতে চাইছে আন্ডারডগ হিসেবে।
দু’দলের জন্যই এই ম্যাচ জুনে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের প্রস্তুতির মঞ্চ। অতীতে মাত্র দু’বারই দেখা হয়েছিল দু’দলের। সৌদি আরবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দুই লেগের ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথমটি ৩-০ গোলে জিতেছিল। আর দ্বিতীয়টি শেষ হয়েছিল ২-২ সমতায়। কাবরেরা মালদ্বীপ হার ভুলে দৃষ্টি রাখছেন সামনে। ভাবনায় এখন শুধুই নিজের ভাবনাগুলোর সঙ্গে দ্রুত শিষ্যদের মানিয়ে নেওয়া। কোচের ভাবনাতে অচেনা মঙ্গোলিয়াকেও খুব বেশি খুঁজে পাওয়া যায়নি প্রাক-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলনে, ‘মালদ্বীপ থেকে ফেরার পর আমরা রিকভারির দিকে গুরুত্ব দিয়েছি। একই সঙ্গে ভাবছি নিজের পরিকল্পনার সঙ্গে খেলোয়াড়দের কীভাবে খাপ খাওয়ানো যায়। সিলেটে এসে দুটি অনুশীলন সেশন পার করেছি। আজ (গতকাল) আরেকটি সেশন আছে। খেলোয়াড়রা খুব চনমনে আছে। তারাও চাইছে দ্রুত মানিয়ে নিয়ে ম্যাচটা জিততে।’
২৯ ধাপ এগিয়ে থাকা মালদ্বীপের সঙ্গে বাংলাদেশ যে কৌশলে খেলেছে, সেটা মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে থাকবে না জানিয়েছেন কোচ, ‘দ্টুা ম্যাচের কৌশল ও খেলোয়াড়দের ভিন্ন রকম হবে। মালদ্বীপ এমন একটা দল, যারা টেকনিক্যালি মেধাবী, তারা বিল্ড-আপের সময় সম্ভবত বেশি ঝুঁকি নেয়। প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরপুর দল। মালদ্বীপের মতো কৌশলী নয়, সম্ভবত ডিরেক্ট ফুটবল খেলে। তবে সত্যি বললে কী আমরা আমাদের নিয়েই বেশি ভাবছি। কীভাবে আমরা কৌশলগুলো রপ্ত করব, মাঠে প্রয়োগ করব, প্রতিপক্ষের চেয়ে আমাদেরকে এদিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে।’
বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়াও দিচ্ছেন ভালো কিছুর প্রতিশ্রুতি, ‘মালদ্বীপের ম্যাচে আমাদের কী করা উচিত ছিল, সামনের ম্যাচে আমাদের কী করণীয়, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। গত ম্যাচের ফল নিয়ে আমরা অবশ্যই কিছুটা হতাশ। তবে আমাদের এখন সামনের ম্যাচের দিকে তাকাতে হবে। অবশ্যই আমরা জিততে চাই, কেননা এটা আমাদের হোম ম্যাচ।’
মঙ্গোলিয়ার কোচ ইচিরো ওতসুকাও বেশিদিন হয়নি দায়িত্ব নিয়েছেন। এই জাপানিজ সিলেটে পা রাখার পর থেকেই অনুশীলন ঘাটতির কথা বলে আসছেন। সাত দিন আগে লাওসে গিয়ে স্বাগতিকদের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল মঙ্গোলিয়া। সেই ম্যাচ দিয়েই ওতসুকার যাত্রা শুরু। অনেকটা কাবরেরার মতোই। তাই আজ জয় দিয়ে শুরুর আক্ষেপ ঘোচাতে চান ওতসুকা। তাপমাত্রা তাই এই ম্যাচে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে বলে মনে করেন ওতসুকা, ‘এখানে তাপমাত্রা অনেক গরম। মঙ্গোলিয়ায় এখনো হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা। তাছাড়া মঙ্গোলিয়ায় আর্টিফিশিয়াল মাঠে খেলা হয়, আমাদের খেলোয়াড়রা ঘাসের মাঠে খেলে অভ্যস্ত নয়। তাই এখানে খেলাটা কঠিনই হবে।’ ম্যাচটা শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৫টায়। আজ মাঠে বসে প্রায় ১৭ হাজার দর্শক খেলা দেখার সুযোগ পাবে। তাদের সামনে কাবরেরা-জামালরা যেমন চান জিততে, তেমনই মঙ্গোলিয়ার আশা ভালো খেলা। সব মিলিয়ে একটা রোমাঞ্চকর ম্যাচের আশা করাই যায়।
