রাজধানীর সবুজবাগে গৃহবধূ তানিয়া আফরোজ (২৬) হত্যায় এসি মেরামতে আসা তিনজন অংশ নিয়েছিল। চুরিতে বাধা দেওয়ায় তকে খুন করা হয়। গত সোমবার ঝালকাঠি থেকে প্রধান আসামি বাপ্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে ঢাকার রামপুরা থেকে সুমন ও রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার বাপ্পীকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আফনান সুমী ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অন্য আসামিদের আজ বুধবার আদালতে হাজির করা হবে বলে জানা গেছে।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মতিঝিল জোনের উপকমিশনার আবদুল আহাদ এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, তানিয়ার স্বামী ময়নুল ইসলাম ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টেকনিশিয়ান। তারা সবুজবাগে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। এ দম্পতির মায়মুনা জাহান (৪) ও ১০ মাস বয়সী ছেলে সন্তান রয়েছে। গত শনিবার বিকেলে বাসায় এসে দরজায় নক করে পূর্বপরিচিত এসি মিস্ত্রি বাপ্পী ও তার সহযোগী সুমন। এসি সার্ভিসিং করাবেন কিনা জানতে চাইলে তানিয়া স্বামীর সঙ্গে ফোনে বাপ্পীকে কথা বলিয়ে দেন এবং ময়নুল বাসায় এলে পরে ডেকে নেওয়া হবে বলে জানান। এরপর তানিয়া ফোনে স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে বলতে ওপরে চলে যান। একপর্যায়ে সিদ্ধান্ত বদলে বাপ্পী ও সুমনকে নিয়ে এসি সার্ভিসিং করতে বলেন।
আবদুল আহাদ আরও জানান, কাজের একপর্যায়ে তার আনার কথা বলে বাইরে যায় বাপ্পী। কিছুক্ষণ পর রুবেল নামে আরেক মিস্ত্রিকে নিয়ে আসে। তারা কাজ করতে থাকে। এ সময় ছেলেকে নিয়ে রান্নাঘরে যান তানিয়া। মায়মুনা মিস্ত্রিদের কাজ দেখতে থাকে। একপর্যায়ে সুমন, বাপ্পী ও রুবেল আলমারির দরজা ভেঙে মালামাল চুরি করতে থাকলে তানিয়া দেখতে পেয়ে চিৎকার দেন। এ সময় তার মুখে বালিশ চাপা দেয় রুবেল। আর ব্যাগ থেকে চাপাতি বের করে বাপ্পী মাথায় ও পিঠে কোপ দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে সন্তানরা কান্না শুরু করলে তাদের মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বাসা থেকে নগদ টাকা ও গহনা নিয়ে পালিয়ে যান তিনজন। গ্রেপ্তারের পর গহনা উদ্ধার করা হয়েছে।
