প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ ছাঁটাই, অন্ধকারে শ্রীলঙ্কা

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২২, ০৮:৪২ পিএম

নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। টাকার অভাবে প্রতিদিন ১০ ঘন্টা করে বিদ্যুৎ ছাটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার।

১৯৪৮ সালে ব্রিটিশদের থেকে স্বাধীনতা লাভের পরে দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রের এই অর্থনীতি কখনও এমন খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যায়নি।

দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের গৃহযুদ্ধের সময় সামরিক খাতে অত্যাধিক ব্যয় শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছিল। করোনা পরিস্থিতিতে পর্যটন শিল্প প্রায় স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বিদেশ থেকে আসা আয়ে।

অবস্থা এতটাই সঙ্গীন যে, দুটি জাহাজে করে বাইরে থেকে তেল এলেও, ডলারের অভাবে তা হাতে নেওয়া যাচ্ছে না বলে গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন সে দেশের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী উদয় গমনপিলা।

বিদেশি মুদ্রা না থাকায় কাগজ এবং কালি আমদানি করতে পারছে না কলম্বো সরকার। ফলে দেশ জুড়ে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের সব পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে!

পাশাপাশি, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানি তলানিতে ঠেকায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে তৈরি হয়ে অব্যবস্থা।

আর গত কয়েকদিন ধরেই অনিয়মিত হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। এই পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা সরকার ঘোষণা করেছে, বুধবার থেকে প্রতিদিন রাজধানী কলম্বো-সহ গোটা দেশে ১০ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ রাতের কলম্বোয় ভরসা এখন মোমবাতি।

এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্ক বাড়ছে আমজনতার মধ্যেও। দেশ জুড়ে খাবার এবং অত্যাবশকীয় জিনিসপত্র মজুত করার প্রবণতা বাড়ায় তৈরি হয়েছে সঙ্কট। দোকান এবং পেট্রোল পাম্পগুলিতে পড়ছে দীর্ঘ লাইন।

সরবরাহ বাড়ন্ত হওয়ায় ছোটখাটো অশান্তির ঘটনাও ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে নজরদারির জন্য সেনা নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে।

শ্রীলঙ্কা বর্তমানে বিদেশি ঋণের ভারে জর্জরিত। ফলে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা ছাড়া রাজাপক্ষে সরকারের পক্ষে পরিস্থিতির মোকাবিলা কার্যত অসম্ভব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত