খাবারের দাওয়াত না দেওয়ায় এক শিক্ষককে লাথি ও কিল-ঘুষি মারেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি কলেজ (শরীয়তপুর) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ বেপারী ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল জমাদ্দার।
শনিবার সকালে ঘটনায় তিন দিন পর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন। এর আগে মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এ ছাড়া আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবিতে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাসহ পাঁচ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা।
এ সময় কলেজ অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মানববন্ধন ও সমাবেশ পণ্ড করেন। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রধান করেন শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের শিক্ষককে লাথি ও কিল-ঘুষি মেরে লাঞ্ছিত করেছেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতারা। যা অন্যায় ও অবিচার। সোহাগ বেপারী, রাসেল জমাদ্দারসহ জড়িতদের আইনের আওতায় এনে তাদের বিচার করতে হবে। জড়িতদের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমরা হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি কলেজ শরীয়তপুরের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. হারুন অর রশিদ বলেন, গত ৩০ মার্চ কলেজের বাংলা বিভাগের সম্মান চতুর্থ বর্ষের মৌখিক পরীক্ষার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে বহিঃপরীক্ষকেরা আসেন। শিক্ষক বিএম সোহেলসহ কলেজের বাংলা বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকেরাও উপস্থিত ছিলেন।
‘তখন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ বেপারী ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল জমাদ্দার ২০-২৫ জন লোক নিয়ে কলেজের ৩০২ নম্বর কক্ষে বেআইনিভাবে জোরপূর্বক প্রবেশ করে, পরীক্ষার অনুষ্ঠানের প্রীতিভোজে তাদের দাওয়াত দিল না কেন? এ বিষয় নিয়ে পরীক্ষায় বাধা সৃষ্টি করে।’
শিক্ষক বিএম সোহেল প্রতিবাদ করলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লাথি ও কিল-ঘুষি মেরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। তাই মামলা করেছি।
এ ছাড়া গত ৩০ মার্চ ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
এর আগে ৩১ মার্চ সকালে শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মো. মহসিন মাদবর ও যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান রাশেদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাদবর বলেন, সোহাগ বেপারী যে এই কলেজের নিয়মিত ছাত্র নয় তা আমাদের জানা ছিল না। আর কমিটি অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। তার বিরুদ্ধে শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে কলেজ শাখা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছি।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন বলেন, ওই ঘটনায় সোহাগ ও রাসেলের নামসহ ২০-২৫ জন অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
