পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছেন দেশটির জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান। এরপর খানের পরামর্শে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি।
রবিবার পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ হয়ে যাওয়ার পর দেশটির বিরোধী দলীয় নেতারা বলছেন, তারা এখন আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
পাকিস্তানের আইন বিশেষজ্ঞ সারুপ ইজাজ বলছেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এই পদক্ষেপ সংবিধান এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতিরও লঙ্ঘন।
তিনি বলেন, ‘যখন অনাস্থা প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে বলেছেন যে ভোট হবে, তখন এই পদক্ষেপ সাংবিধানিক বিধি-বিধানের প্রতি অবজ্ঞা বলে মনে হয়’।
এই মুহূর্তে সংকটের একমাত্র সমাধান সুপ্রিম কোর্ট দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
পাকিস্তানি এই আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, যদি পার্লামেন্টে কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে এবং এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে আদালত সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারেন। আদালত যদি সিদ্ধান্ত নেন যে, এতে অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে তাহলে সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ বাতিল এবং অকার্যকর ঘোষণা করা হবে।
এই আইনজীবী বলেন, আদালত যদি স্পিকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে অনাস্থা প্রস্তাব আবারও ভোটের জন্য তোলা হবে।
সারুপ ইজাজ বলেন, আমার মতে, আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারেন এবং একাধিকবার সেটি করেছেনও। যদিও আদালত পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতে নারাজ, তারপরও স্পিকার যদি সংবিধান উপেক্ষা করে থাকেন, তাহলে তিনিও দায়মুক্তি পেতে পারেন না।
দেশটির অপর আইন বিশেষজ্ঞ মুনীব ফারুক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার পরামর্শকে ‘সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া রীমা ওমর নামের অপর এক আইন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, কোনো যদি কিন্তু নয়, স্পিকারের নির্দেশনা পরিষ্কার অসাংবিধানিক।
তবে আদালত এই বিষয়টি নজরে নেবে কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। পাকিস্তানের সংবিধানের ৬৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে, জাতীয় পরিষদ অথবা সিনেটের কোনো কাজে শীর্ষ আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
