টিপ পরা নিয়ে হেনস্তা: কাউকে চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২২, ০৬:২৭ পিএম

টিপ পরায় ঢাকার রাস্তায় গতকাল শনিবার হয়রানির শিকার হয়েছেন তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দার। এ বিষয়ে গতকাল শেরেবাংলা নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

পুলিশের পোশাক পরা একজনের বিরুদ্ধে ‘ইভটিজিং’ এবং ‘প্রাণনাশের চেষ্টা’র অভিযোগ করছেন লতা সমাদ্দার।

তবে, হেনস্তার ঘটনায় এখনো কাউকে চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। বেশ কিছু ভিডিও সংগ্রহ করা হলেও এখন পর্যন্ত ‘স্পষ্ট কিছু মেলেনি’ বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

শনিবার ওই খবর প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। হেনস্তাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রোববার সংসদে দাবি জানান সংসদ সদস্য, অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের (তেজগাঁও-জোন) অতিরিক্ত উপকমিশনার রুবাইয়াত জামান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি ‘খুবই গুরুত্বের সঙ্গে’ দেখা হচ্ছে। আমরা এ নিয়ে কাজ করছি, তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারিনি।

যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আদৌ পুলিশ সদস্য নাকি অন্য কেউ, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

শেরেবাংলা নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, সংগ্রহ করা ভিডিওতে স্পষ্ট করে কিছু বোঝা যাচ্ছে না, তবে পুলিশ সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। আমরা এখনো তদন্ত করে দেখছি, আদৌ এটা কোনো পুলিশ সদস্য, না অন্য কোনো সংস্থার লোক, সে বিষয়টি স্পষ্ট না হয়ে বলা যাবে না।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ওই এলাকায় কোন কোন ইউনিটের পুলিশ সদস্য ডিউটিতে ছিলেন, তার একটি তালিকা তৈরির চেষ্টা চলছে।

তবে শিক্ষক লতা সমাদ্দার মোটরসাইকেলের যে নম্বর পুলিশকে দিয়েছেন, সে ব্যাপারে প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ বলছে, ওই নম্বরের ‘ল’ সিরিজের একটি এবং ‘হ’ সিরিজের আরেকটি মোটরসাইকেল আছে।

‘ল’ সিরিজের বাইকটি ২০১৬ সালে গুলশান থেকে চুরি হয়ে গেলে সে সময় থানায় অভিযোগ করা হয়। এরপর মালিক তার মোটরসাইকেলটি পাননি। পুলিশ এই মালিকের সঙ্গে কথা বলেছে।

একই নম্বরের ‘হ’ সিরিজের মোটরসাইকেলটি যার নামে নিবন্ধন করা, তিন বছর আগে তিনি মিরপুরে এক বাসায় ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ সেই বাসায় গিয়ে জানতে পারে, প্রায় তিন মাস থাকার পর ওই ব্যক্তি বাসা পরিবর্তন করেছেন। বাড়িওয়ালা তার কোনো ঠিকানা বা মোবাইল নম্বর দিতে পারেননি। তবে বাড়িওয়ালার সঙ্গে কথা বলে পুলিশ মনে করছে, ওই ব্যক্তি পুলিশ সদস্য নয়।

মোটরসাইকেল নম্বরটির কোনো একটি অঙ্ক ভুল হয়ে থাকতে পারে, সে সম্ভাবনাও মাথায় রাখছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

যে জায়গায় শিক্ষককে হেনস্তা করা হয়েছে, সেই জায়গা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সব পথ এবং দূরবর্তী সব সিসি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে বলে তারা জানিয়েছেন।

থানায় দেওয়া অভিযোগে লতা সমাদ্দার লিখেছেন, শনিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার বাসা থেকে রিকশায় ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমার সামনে নামেন। সেখান থেকে হেঁটে তেজগাঁও কলেজে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন।

তখন সেজান পয়েন্টের সামনে থেমে থাকা একটি মোটরসাইকেলের ওপর পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি বসে ছিলেন। ওই মোটরসাইকেলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে ওই ব্যক্তি লতার কপালে টিপ পরা নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন।

একপর্যায়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন পুলিশের পোশাক পরা ওই ব্যক্তি। পেছনে ফিরে ঘটনার প্রতিবাদ করায় ফের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় শিক্ষক লতাকে। তাকে উদ্দেশ্য করে ‘টিপ পরছোস কেন’ মন্তব্য করেন ওই ব্যক্তি।

লতার অভিযোগ, তিনি প্রতিবাদ করায় পুলিশের ওই সদস্য মোটরসাইকেল চালিয়ে তার গায়ের ওপর উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সরে গিয়ে রক্ষা পেলেও আহত হন তিনি। পরে পাশেই দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশকে তিনি বিস্তারিত জানান।

যে এলাকায় শিক্ষক লতা সমাদ্দারকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে সেই এলাকাটি ট্রাফিকের তেজগাঁও বিভাগের। থানায় দেওয়া অভিযোগের বর্ণনা অনুযায়ী ট্রাফিকের কোনো পুলিশ সদস্য ওই এলাকায় ওই সময় ডিউটি করছিলেন কিনা জানতে চাওয়া হয়েছিল ট্রাফিকের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার সাহেদ আল মাসুদের কাছে।

তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। গুরুত্বের সঙ্গে আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, অভিযোগ করা শারীরিক বর্ণনা অনুযায়ী ট্রাফিকের সে রকম কোনো সদস্য সেখানে ডিউটি করছিলেন না। বরং লতা সমাদ্দার কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের পরামর্শেই থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। তারপরও আমরা খোঁজ রাখছি, তদন্ত যারা করছেন তাদের সহযোগিতা করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত