কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দরকে হেনস্তার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তের শাস্তি দাবি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
সোমবার এক বিবৃতিতে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্য কর্তৃক ড. লতা সমাদ্দরের প্রতি বর্ণবাদী ও অবমাননাকর আচরণের ঘটনায় আমরা ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এতে আরও বলা হয়, এ ঘটনা সর্বস্তরের নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বর্তমান সরকার যেখানে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমাজের সর্বস্তরের ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ ভেদাভেদ দূর করে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে; ঠিক সে সময়ে সরকারের পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্য যিনি নারীর নিরাপদ গমনাগমন নিশ্চিত করতে তৎপর থাকার কথা, তার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ অনভিপ্রেত।
পরিশেষে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, টিপ পরায় পুলিশের হেনস্তার শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে ঢাকার তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দার শনিবার শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
শনিবার ওই খবর প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। হেনস্তাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রোববার সংসদে দাবি জানান সংসদ সদস্য, অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা।
অভিযোগে লতা সমাদ্দার লিখেছেন, শনিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার বাসা থেকে রিকশায় ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমার সামনে নামেন। সেখান থেকে হেঁটে তেজগাঁও কলেজে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন।
সেজান পয়েন্টের সামনে থেমে থাকা একটি মোটরসাইকেলের উপর পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি বসে ছিলেন। ওই মোটরসাইকেলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে ওই ব্যক্তি লতার কপালে টিপ পরা নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন।
একপর্যায়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন পুলিশের পোশাক পরা ওই ব্যক্তি। পেছনে ফিরে ঘটনার প্রতিবাদ করায় ফের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় শিক্ষক লতাকে। তাকে উদ্দেশ্য করে 'টিপ পরছোস কেন' মন্তব্য করেন ওই ব্যক্তি।
লতার অভিযোগ, তিনি প্রতিবাদ করায় পুলিশের ওই সদস্য মোটরসাইকেল চালিয়ে তার গায়ের উপর উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সরে গিয়ে রক্ষা পেলেও আহত হন তিনি। পরে পাশেই দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশকে তিনি বিস্তারিত জানান এবং তাদের পরামর্শে থানায় গিয়ে জিডি করেন।
