আগের দিন দোকানে আগুন, পরদিন ব্যবসায়ীকে হত্যা

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২২, ০৫:০৭ পিএম

গত রবিবারে সকালে ফোন দিসিল আমার পোয়ায় (ছেলে)। পরে জানাইলো তার দোকানোত কেরা (কে বা কারা) আগুন লাগাইদিসে (লাগিয়েছে)। আইজ (সোমবার) সকালে খবর পাইলাম পোয়া (ছেলে) নাই। সুমনে আর মাততো (কথা) নায় আমার লগে (সাথে)। এ কথা বলেই বারবার মাটিতে লুটে পড়ছিলেন বৃদ্ধ মা রহিমা খাতুন।

সোমবার ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের শিবপুর ইউনিয়নের ভাগাউড়া গ্রামে ভাড়াটে বাসায় দুর্বৃত্তরা হত্যা করে ফার্নিচার ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান সুমনকে (২৮); তিনি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌর এলাকার আলেপুর গ্রামের মৃত আবু মিয়ার ছেলে।

সুমনের পরিবারের সদস্যরা দেশ রূপান্তরকে জানান, আট বছর বছর আগে পারিবারিক অভাবের তাড়নায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পাড়ি জমান আতিকুর রহমান সুমন। দুই ভাই তিন বোনের মধ্য তিনি সবার ছোট। সেখানে ফার্নিচার ব্যবসা শুরু করেন। এভাবেই চলছিল সুমনের জীবন। তার সঙ্গে সেখানে কাজ করত পাশের বাড়ির ফারুক মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম সোহেল।

গত ১৫ দিন আগে শবেবরাতে নিজ বাড়িতে এসেছিল সুমন। সোমবার ভোরেও সেহরির সময় সুমন কথা বলে তার বৃদ্ধ মায়ের সঙ্গে। কে জানত মায়ের সঙ্গে এটাই ছিল তার জীবনের শেষ কথা।

সুমনের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবার লোকজন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না এমন মৃত্যু। স্বজন ও বৃদ্ধ মা রহিমা খাতুনের বারবার ছেলের কথা বলে আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের নারী-পুরুষ বাড়িতে জড়ো হয়েছেন। সংবাদ পাবার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলরকে নিয়ে বড় ভাইসহ কয়েকজন সুমনের লাশ আনতে নবীনগরে অবস্থান করছেন। এক চালা মাটির ঘরের একটি রুমে মাটিতে বসা বৃদ্ধ মা রহিমা। চোখের কোণে দিয়ে জল পড়ছে।

সুমনের মা রহিমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেশ রূপান্তরকে বলেন, পরিবার চালাতেই এত দূরে ছেলেটা গিয়েছিল। কিন্তু আমার ছেলেকে কারা এভাবে মারল জানি না। আজ (সোমবার) সেহরির সময় আমার সঙ্গে মোবাইলে শেষ কথা বলেছে। সে জানিয়েছিল রবিবারের ভোরবেলা দোকানে আগুন লেগেছে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।

স্থানীয় কমলগঞ্জ পৌর কাউন্সিলর জসিম উদ্দীন শাকিল বলেন, পরিবারের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে বর্তমানে নবীনগরে অবস্থান করছি। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে নবীনগর থানা-পুলিশ জানিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত