চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বকেয়া বেতনের দাবিতে একটি টেক্সটাইল মিলের বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এত অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার সকালে এ সংঘর্ষের পর বোয়ালখালীর আরাকান সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকেরা।
স্থানীয়রা জানায়, কালুরঘাট সেতু সংলগ্ন বোয়ালখালী উপজেলায় রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলে শ্রমিকেরা বকেয়া বেতনের দাবিতে সকাল ৮টায় কারখানা ফটকের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। মালিকপক্ষ তাদের কারখানার ভেতরে ঢুকতে না দিলে শ্রমিকেরা রাস্তা আটকে দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের লাঠিপেটা এবং শ্রমিকদের ইট নিক্ষেপে উভয় পক্ষেই বেশ কয়েক জন আহত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।
প্রশাসনের তাগিদে দুপুরের পর কারখানার কর্মকর্তারা শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন বলে জানান বোয়ালখালীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার।
তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এই কারখানায় বিভিন্ন সময় শ্রমিকদের বেতন বকেয়া পড়ে। মাস খানেক আগেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল। সম্প্রতি দুই মাসের বেতন বকেয়া রেখে কারখানা কর্তৃপক্ষ কাজ সাময়িক বন্ধ রাখে। শ্রমিকেরা সকালে বেতনের জন্য এসে কারখানায় ঢুকতে না পেরে বিক্ষোভ শুরু করে এবং সড়কে ব্যারিকেড দেয়।
ভারপ্রাপ্ত ইউএনও তাহমিনা বলেন, আমরা সকাল থেকে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। তারা কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না। এ অবস্থায় শ্রমিকরাও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। দুপুরের পর কারখানার ডিজিএম এসেছেন। তার সঙ্গে আলোচনা চলছে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের বিষয়ে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দুই মাসের বেতন বকেয়া রেখে গত ১৬ মার্চ কারখানার কাজ বন্ধ করে দেয় মালিক পক্ষ। দাবির মুখে ৩ এপ্রিল কারখানার কাজ চালু করে বেতন দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী রোববার তারা এলে মালিকপক্ষ সোমবার বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু সোমবার আসার পর কারখানায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পটিয়া সার্কেল) তারিকুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, শ্রমিকরা বেতনের জন্য কারখানার সামনে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ইটের আঘাতে কয়েক পুলিশসহ কয়েকজন আহত হয়েছে।
বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সঞ্জয় সেন জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছয় পুলিশ ও চার শ্রমিকসহ ১০ জন চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। আহতরা সবার দেহেই ইটের জখম ছিল। তবে তাদের কারও আঘাতই গুরুতর নয়।
