ভারতে উন্নত চিকিৎসার নামে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২২, ০৮:৫৬ পিএম

ভারতে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে অসহায় মানুষের কিডনিসহ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তার নাম মোছা. বিউটি বেগম। বাড়ি নাটোর জেলা সদরের কালীবাড়ীতে। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি মেডিকেল ডকুমেন্ট ফাইল ও একটি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়।

রবিবার রাতে ঢাকার আশুলিয়ায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-৩ এর স্টাফ অফিসার (অপ্স. ও ইন্ট. শাখা) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রানী দাস জানান, চক্রের সদস্যরা নিরীহ লোকদের সুচিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে জিম্মি করে দেশে-বিদেশে অবৈধভাবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করে আসছে। এমন অভিযোগ পাওয়ার পর গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৩ এর একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে বিউটি বেগম নামে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ফ্লাইট লে. (স্কোয়াড কমান্ডার) ফাতিন সাদাব অরণ্য জানান, গ্রেপ্তার ওই নারী মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রয় করা প্রতারক চক্রের সদস্য। 

র‌্যাব জানায়, আশুলিয়া থানায় দায়ের করা একটি মামলা সূত্রে ভুক্তভোগী আব্দুল কাশেমের (৩৪) তথ্য মেলে। জানা যায়, তার বাড়ি জয়পুরহাটে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পেটের ব্যথায় ভুগছিলেন। গ্রামে ও শহরে চিকিৎসা করিয়ে সুফল পাননি। ভারতে ভালো চিকিৎসা হয়, সেখানে গেলে ভালো হয়ে যাবেন, এমন খবরে গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর রাতে আব্দুল কাশেম ও স্ত্রী ববিতা বেগম দালাল চক্রের সদস্য মোছা. বিউটি বেগমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। তখন বিউটি তাদের নিজ বাসায় ডাকেন। পরদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিউটির বাসায় যান কাশেম ও তার স্ত্রী। আলাপ-আলোচনার একপর্যায়ে ভুক্তভোগী কাশেমকে ভারতে নিয়ে সুচিকিৎসা দেওয়ার প্রলোভন দেখান বিউটি। 

র‌্যাব জানায়, ভারতে কয়েকবার আসা-যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিউটি তাদের জানান, বিভিন্ন লোককে ভারতে নিয়ে কম খরচে চিকিৎসা করিয়ে সাহায্য করেছেন। তার পাসপোর্ট ও বিভিন্ন কাগজপত্রও তিনি দেখান। বিউটির কথামতো কাশেম ও ববিতা পাসপোর্ট ও ভিসা করে গত বছরের ৪ নভেম্বর যশোর বর্ডার দিয়ে ভারত যান। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা চক্রের পলাতক সদস্য মো. শহীদ (৪৫) ও শেখ ফরিদ (৪২) তাদের নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখেন। সেখানে থেকে কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে কাশেমকে নিয়ে ডাক্তার দেখানো হয়। চিকিৎসার নামে কৌশলে কাশেমের কাছ থেকে স্বেচ্ছায় কিডনি দানের সম্মতিপত্রে সই নেন চক্রের পলাতক সদস্যরা। পরে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসার কথা বলে তাকে ভর্তি করানো হয়। সেখানে বিভিন্ন তারিখে আব্দুল কাশেমের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অপারেশন করতে হবে বলে জানানো হয়। এর কয়েকদিন পর ওই হাসপাতালের একটি রুমে তাকে একা নিয়ে অজ্ঞান করে অপারেশন করা হয়। অপারেশন শেষে জ্ঞান ফেরার পর পেটের বামে কাটা দেখে ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করে কাশেম জানতে পারেন, তিনি তার কিডনি স্বেচ্ছায় দান করেছেন। পরে তিনি চক্রের সদস্যদের কাছে কিডনি বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা ভয়ভীতি দেখান। ২১ ফেব্রুয়ারি কাশেম ও স্ত্রী ববিতাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

স্কোয়াড কমান্ডার ফাতিন সাদাব অরণ্য জানান, পরস্পর যোগসাজশে ভুক্তভোগী কাশেমকে চিকিৎসার নামে ভারতে নিয়ে অনুমতি ছাড়া তার বাম পার্শ্বের কিডনি বিক্রি করে দিয়েছে চক্রটি। তিনি বাংলাদেশে এসে সুচিকিৎসা না পেয়ে অসহায় জীবনযাপন করছেন। গ্রেপ্তার বিউটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত